দুই যুগের শিরোপা খরা ঘুচানোর সাফ শুরু আজ
দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ হিসেবে সাফ চ্যাম্পিয়নশীপকে মূল্যায়ন করা হয়। বাংলাদেশ ২০০৩ সালে একবারই এই আসরের শিরোপা জিতেছিল। সে হিসেবে কেটে প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময়। এরপর ২০১৮ সালে বাংলাদেশের মাটিতে সাফের আসর বসলেও শিরোপা জেতা হয়নি। এবার হামজা চৌধুরীর মতো সুপারস্টার দলের সঙ্গে যোগ হওয়ায় আশা বেড়েছে। যদিও বৃহস্পতিবার প্রথম ম্যাচে এই তারকাকে পাচ্ছেনা বাংলাদেশ। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে রাত আটটায় ভুটানের মুখোমুখি হবে থমাস ডুলির শীষ্যরা।

ছবি : সংগৃহীত২৪ঘন্টা অনলাইন: দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ হিসেবে সাফ চ্যাম্পিয়নশীপকে মূল্যায়ন করা হয়। বাংলাদেশ ২০০৩ সালে একবারই এই আসরের শিরোপা জিতেছিল। সে হিসেবে কেটে প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময়। এরপর ২০১৮ সালে বাংলাদেশের মাটিতে সাফের আসর বসলেও শিরোপা জেতা হয়নি। এবার হামজা চৌধুরীর মতো সুপারস্টার দলের সঙ্গে যোগ হওয়ায় আশা বেড়েছে। যদিও বৃহস্পতিবার প্রথম ম্যাচে এই তারকাকে পাচ্ছেনা বাংলাদেশ। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে রাত আটটায় ভুটানের মুখোমুখি হবে থমাস ডুলির শীষ্যরা। তার আগে বিকেল সাড়ে তিনটায় ভারতের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। আসরের সবগুলো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে। স্বাগতিক হলেও আসর শুরুর আগে কোন প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। অন্যদিকে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে হ্যাট্টিক শিরোপায় চোঁখ রাখছে ভারত। পাকিস্তান ও ভুটান ছেড়ে কথা বলবেনা। তবে স্বাগতিক হলেও সাফের সঙ্গে বাফুফের সমন্নয়হীনতা অনেকটাই স্পষ্ট। এত বড় টুর্নামেন্ট হলেও কোন প্রচার-প্রচারনা লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। এই অবস্থার মধ্যেই দ্বিতীয় শিরোপা মিশনে নামছে লাল সবুজ প্রতিনিধিরা।
আসর শুরুর আগেরদিন সংসবাদ সম্মেলনে কোচ থমাস ডুলির সঙ্গে দেখা গেছে তপু বর্মনকে। তাহলে কি সাফে তপুই অধিনায়ক কি না সেই প্রশ্নের উত্তরও পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে জামাল ভুইয়া যে বাদ পড়তে যাচ্ছেন সেই কথা শোনা যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের শিরোপা খরা এবং ঘরের মাঠে ৮ বছর পর আয়োজিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। এই মাঠেই ২০০৩ সালে শিরোপা জিতেছিল লাল সবুজের দল। এরপর ২০০৫ আসরে ফাইনালে উঠেও শিরোপা জেতা হয়নি বাংলাদেশের। ঘরের মাঠে সেই আক্ষেপ মেটাতে চায় বাংলাদেশ। ২৩ বছরের শিরোপা খরা এবং ঘরের মাঠের চাপ নিয়ে কোচ থমাস ডুলি বলেন, 'জীবনের সব লক্ষ্যই বাস্তবসম্মত হতে হবে, এবং এই টুর্নামেন্টে আমাদের জয় পাওয়াটা বাস্ত—বসম্মত। গত ২৩ বছরের চাপ আসলে বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। এখন আমাদের ভালো করার মতো আত্মবিশ্বাস আছে। কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করার মাধ্যমেই এটা সম্ভব। আমরা এ বছর ট্রফিটা জিততে চাই এবং মাঠে তা প্রমাণ করতে চাই।' সাফের আগে সবশেষ ফিফা উইন্ডোতে ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ। প্রীতি ম্যাচ না খেলা এবং ইনজুরি সমস্যা নিয়ে ডুলি যোগ করেন, ’টুর্নামেন্টের আগে পর্যাপ্ত প্রীতি ম্যাচ না পাওয়ার পেছনে আমাদের কিছু ইনজুরি সমস্যা ছিল। তপুসহ বেশ ক'জন খেলোয়াড় পুরোপুরি ফিট না থাকায় আমরা ঝুঁকি নিতে চাইনি। তবে আমি আমাদের খেলোয়াড়দের শতভাগ বিশ্বাস করি’।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের বিশ্বকাপ হিসেবে পরিচিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্যে ঢাকায় এসেছে ভারত। সর্বশেষ দুই আসরের চ্যাম্পিয়নরা এবারও শিরোপা ধরে রাখতে চায়। তবে সবচেয়ে সফল দলটি এবার পূর্ণ শক্তির দল পাঠায়নি। মূল দল নিউজিল্যান্ডে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলতে যাওয়ায় ঢাকায় এসেছে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দল। অপেক্ষাকৃত তরুণ ও অনভিজ্ঞ দল নিয়েও শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা করছে তারা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে সোমবার সবার আগে ঢাকায় আসে ভুটান। মঙ্গলবার এসেছে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। ঢাকায় পা রেখে বাংলাদেশ দলকে শক্তিশালী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ভারত। দলের কোচ নওশাদ মুসা বলেছেন, ‘আমার বিবেচনায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। আশা করি, ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হব। তবে আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।’ ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলটি মূলত তরুণ ও অনভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া। বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কোচ নওশাদ। তবে দল নিয়ে হতাশ নন তিনি। তার বিশ্বাস, বর্তমান দলটিরও শিরোপা ধরে রাখার সামর্থ্য রয়েছে। নওশাদ বলেন, ‘কয়েকজন খেলোয়াড়কে প্রথম ম্যাচের আগে পাচ্ছি না। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। তবে যে দলটি পেয়েছি, সেটিও খারাপ নয়। সত্যি বলতে, আমাদের শক্তিশালী দল আছে।’ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের সাফল্যের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৯৩ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের পর ১৯৯৭, ১৯৯৯, ২০০৫, ২০০৯, ২০১১, ২০১৫, ২০২১ ও ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দলটি। সব মিলিয়ে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত এবার ঢাকায় এসেছে দশম শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ফাইনালে কুয়েতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা।
২০০৩ সালের পর প্রায় দুই যুগের বন্ধ্যত্ব কাটিয়ে দ্বিতীয় শিরোপার নাগাল পাওয়া সংক্রান্ত কৌতূহলও বিস্ময়করভাবে উধাও ফুটবলামোদীদের মাঝে। কোন দল কখন আসবে, থাকবে কোন হোটেলে, অনুশীলন কোথায়, সূচিই বা কী, এসব তথ্যও সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। সবকিছুতেই কেমন যেন গা-ছাড়া ভাব। ঢাকায় পৌঁছানো অতিথি দল নিয়েও নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছে না স্থানীয় আয়োজক বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বাফুফের এক কর্মকর্তা স্থানীয় এক গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘দলগুলোর ঢাকায় পৌঁছানোর ছবি তুলতে সাফের কাছে একজন আলোকচিত্রী চেয়েছিল বাফুফে, কিন্তু উত্তরের বদলে মিলেছে শুধু অপেক্ষা। নিজেদের আলোকচিত্রী পাঠানো যেত। সাফ পারিশ্রমিক দেবে না; তাহলে বাফুফের আলোকচিত্রী কেন তাদের জন্য খাটবে?’ এই এক বক্তব্যেই দুই সংস্থার দূরত্ব আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া যায়। আসর শুরুর আগে রাজধানীর পথে বা স্টেডিয়াম এলাকায় বিলবোর্ড, ফেস্টুন কিংবা দৃশ্যমান প্রচার নেই। টিকিট, ম্যাচসূচি বা উদ্বোধনী আয়োজন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ নেই। আসরের শিরোনাম-স্পনসর থাকলেও তার ছাপ শহরজুড়ে চোখে পড়ে না। অথচ এই আসরের পরিচিতি সামান্য নয়। দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ আসর বলে যাকে ডাকা হয়। দেশের ফুটবলপ্রেমীদের সেই পুরোনো উন্মাদনা অনুপস্থিত। এক সময় সাফ মানেই ছিল টিভির সামনে আর চায়ের দোকানে উপচে পড়া ভিড়, পাড়ায়-মহল্লায় তুমুল তর্ক।


