আন্তর্জাতিক

দুর্নীতি ও দাবানল মোকাবিলায় ব্যর্থতার প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ

বিক্ষোভকারীদের অনেকে ডিস্টোপীয় কাহিনি নির্ভর চলচ্চিত্র ও বইয়ের সিরিজ ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’-এর বিদ্রোহের প্রতীক তিন আঙুলের অভিবাদন প্রদর্শন করে। এ সময় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখা বিভিন্ন পোস্টারও বহন করেন

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ২২:২২
দুর্নীতি ও দাবানল মোকাবিলায় ব্যর্থতার প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ

২৪ঘণ্টা অনলাইন : অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি এবং ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকার প্রতিবাদে বুধবার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কেন্দ্রস্থলে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছে। দাবানলের কারণে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত ধোঁয়ায় দেশটিতে হাজার হাজার মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের অনেকে ডিস্টোপীয় কাহিনি নির্ভর চলচ্চিত্র ও বইয়ের সিরিজ ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’-এর বিদ্রোহের প্রতীক তিন আঙুলের অভিবাদন প্রদর্শন করে। এ সময় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখা বিভিন্ন পোস্টারও বহন করেন। একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘ক্ষুধার্ত? ধনীদের খাও!’জাকার্তা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

অন্য একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের অধীনে নির্মল বাতাস নেই।’ আরেকটি পোস্টারে প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোকে অবমাননাকর নামে সম্বোধন করে লেখা হয়, ‘এই ওক! কেউ আমাদের টাকা দেয়নি। আমরা সবাই বিনা পয়সায় তোমাকে ঘৃণা করি।’৩৭ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী সেকার এএফপিকে বলেন, কয়েক মাস ধরে দাবানল ও ধোঁয়ার সঙ্গে লড়াই করা তার দেশের মানুষের দুর্দশা দেখে তার ‘হৃদয় ভেঙে গেছে’। এর পাশাপাশি তারা দুর্বল হয়ে পড়া মুদ্রা ও পণ্যের উচ্চমূল্যের প্রভাবও মোকাবিলা করছেন।সেকার বলেন, ‘বিক্ষোভের ডাক দেওয়া শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশেই আমি বাড়ি থেকে এখানে এসেছি।’তিনি বলেন, ‘যেসব পুলিশ কর্মকর্তা তাদের গায়ে হাত দেবেন এবং ধরে নিয়ে যাবেন, আমি তাদের খুঁজে বের করব। শিক্ষার্থীদের রক্ষায় সবার আগে আমিই এগিয়ে যাব।’

পুলিশ জানায়, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় ১৪ হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভের আয়োজক কমিটি নিজেদের নাম দিয়েছে ‘সাদার’। ইন্দোনেশীয় ভাষায় শব্দটির অর্থ ‘সচেতন’। কমিটির ভাষ্য, ‘ঘোষিত বিপ্লবকে সামনে রেখে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।বিক্ষোভকারীরা দাবি জানিয়েছেন, বিস্তীর্ণ দ্বীপপুঞ্জজুড়ে দাবানল মোকাবিলায় অতিরিক্ত সম্পদ ও তহবিল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে সরকারকে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হবে।

বন উজাড়ের ওপর নজরদারিকারী সংস্থা নুসান্তারা অ্যাটলাসের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে দাবানলে ১৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে।ইন্দোনেশিয়ান মাদার্স অ্যালায়েন্স নামের একটি বেসরকারি সংস্থার ৪৭ বছর বয়সী সদস্য ও বিক্ষোভকারী অ্যানেট মাউ বলেন, ‘দাবানলে লাখ লাখ মানুষ ভুগছেন।’তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার শিশু স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। দাবানল থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় তারা শ্বাস নিতে পারছে না।’দাবানল ও ধোঁয়াদূষণ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্কেরও অবনতি ঘটিয়েছে।

সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণানের বুধবার জাকার্তায় প্রবোওর সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল।এর আগের দিন বালাকৃষ্ণান বলেন, ধোঁয়াদূষণ ‘কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা নয়’ এবং দাবানল ‘মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্টি হয়েছে’।অ্যানেট অভিযোগ করেন, সমস্যার সমাধান না করে সরকার বিষয়টি ‘ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে’।বিক্ষোভের আয়োজকেরা এএফপিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, প্রবোওর শাসনামলে ‘জনগণের সার্বভৌমত্বের চেয়ে শাসক শ্রেণির সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে’। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘অলিগার্কি বা গুটিকয়েক প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থকে জনগণের স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে।’বিবৃতিতে ঋণের বোঝায় জর্জরিত অর্থনীতির অব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও জ্বালানি সম্পদের শোষণের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত সংকট এবং আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়।দেশটির অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে।

এখানে বিস্তারিত সংবাদ লেখা শুরু করুন...

#জাতীয়#সংবাদ
শেয়ার করুন
আমাদের অনুসরণ করুন Facebook YouTube X Instagram
দুর্নীতি ও দাবানল মোকাবিলায় ব্যর্থতার প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ | ২৪ঘণ্টা