আন্তর্জাতিক

৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলারে বিক্রি দুর্লভ ডাইনোসরের কঙ্কাল

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১৩:৩৯
৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলারে বিক্রি দুর্লভ ডাইনোসরের কঙ্কাল

২৪ঘণ্টা অনলাইন : দুর্লভ প্রজাতির ডাইনোসর ন্যানোটাইর‍্যানাসের একটি কঙ্কাল ‘জোডি’ রেকর্ড ৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে। নিউইয়র্কের সোথবি’স নিলাম হাউসে ১২ মিনিটের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নিলাম শেষে এক অজ্ঞাতপরিচয় ক্রেতা এটি কিনে নেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম প্রায় ৫৮০ কোটি টাকা।

তবে বিপুল অর্থে জীবাশ্মটি বিক্রি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানী ও জীবাশ্ম গবেষকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ এই বৈজ্ঞানিক নমুনা ব্যক্তিগত সংগ্রহে চলে যাওয়ায় গবেষণা ও জনসাধারণের দেখার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিজ্ঞান ও বিবর্তনবিদ্যার অধ্যাপক স্টিভ ব্রুসাটে বলেন, ন্যানোটাইর‍্যানাসের অস্তিত্ব নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এর অন্যতম সেরা কঙ্কালটি কোনো জাদুঘরে না গিয়ে ব্যক্তিগত সংগ্রহে চলে যাচ্ছে। লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিদ ডেভিড হোনও এর উচ্চমূল্য নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত গবেষণা ছাড়া জীবাশ্মটির পূর্ণ বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব নির্ধারণ করা কঠিন।

‘জোডি’ বর্তমানে বিজ্ঞানীদের জানা মাত্র তিনটি তুলনামূলকভাবে সম্পূর্ণ ন্যানোটাইর‍্যানাস কঙ্কালের একটি। নিলামের আগে এর দাম ৬০ লাখ থেকে ৯০ লাখ ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে সেই অনুমান ছাড়িয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে এটি।

জোডির বিক্রয়মূল্য রেকর্ড গড়লেও গত জুলাইয়ে ৫ কোটি ১ লাখ ডলারে বিক্রি হওয়া ‘গাস’ নামের একটি টি. রেক্স কঙ্কালের রেকর্ড ভাঙতে পারেনি। জোডির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯ দশমিক ৬ ফুট এবং উচ্চতা ৯ দশমিক ৬ ফুট। এর বিরলতা ও সংরক্ষণের মান উচ্চমূল্যের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানার হেল ক্রিক ফরমেশন এলাকায় খামারমালিক জোডি পিয়ারসনের জমিতে কঙ্কালটি আবিষ্কৃত হয়। তাঁর নাম অনুসারেই এর নাম রাখা হয় ‘জোডি’। বিখ্যাত বাণিজ্যিক জীবাশ্মবিদ ক্লেটন ফিপস এটি খনন করেন।

সোথবি’স জানিয়েছে, কঙ্কালটিতে ১৯১টি হাড়ের অংশ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সম্পূর্ণ একটি মাথার খুলিও আছে। অনুপস্থিত হাড়ের অংশগুলো থ্রিডি প্রিন্ট ও খোদাই করা প্রতিরূপ দিয়ে পূরণ করা হয়েছে।

জোডির নতুন মালিক চাইলে এর প্রতিরূপ তৈরি করে জাদুঘর কিংবা অন্য সংগ্রাহকদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। তবে জীবাশ্মটি ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকলে গবেষকদের জন্য এর দীর্ঘমেয়াদি প্রাপ্যতা ও বৈজ্ঞানিক তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ কতটা থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

#জাতীয়#সংবাদ
শেয়ার করুন
আমাদের অনুসরণ করুন Facebook YouTube X Instagram