আন্তর্জাতিক

ব্যবসায় দ্রুত বাড়ছে টোকেনভিত্তিক অর্থের ব্যবহার

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১৩:৩১
ব্যবসায় দ্রুত বাড়ছে টোকেনভিত্তিক অর্থের ব্যবহার

২৪ঘণ্টা অনলাইন : বিশ্বজুড়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে টোকেনভিত্তিক অর্থের ব্যবহার প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা সহজ করা, লেনদেনের দক্ষতা বাড়ানো এবং নতুন বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল অর্থের এ পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে।

সিঙ্গাপুরের ব্যাংক ডিবিএসের এক জরিপে দেখা গেছে, ৮৮ শতাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান টোকেনভিত্তিক অর্থ ব্যবহারের কোনো না কোনো পদ্ধতি চালু করেছে অথবা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিবিএসের বৈশ্বিক লেনদেন সেবা বিভাগের প্রধান লিম সুন চং এ তথ্য জানিয়েছেন। জুন ও জুলাই মাসে পরিচালিত জরিপে ১১টি বাজারের ৪২২ জন ব্যবসা ও অর্থ খাতের শীর্ষ কর্মকর্তা অংশ নেন। তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক আয় ৫০ কোটি ডলারের বেশি।

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে বড় পরিসরে টোকেনভিত্তিক অর্থের ব্যবহার চালু হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করছে।

জরিপ অনুযায়ী, টোকেনভিত্তিক অর্থের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে স্টেবলকয়েন বা স্থিতিশীল মুদ্রা। ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এটি ব্যবহার করছে। এ ছাড়া ৫৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান টোকেনভিত্তিক আমানত এবং ৫২ শতাংশ টোকেনভিত্তিক অর্থবাজার তহবিল ব্যবহার করছে।

স্টেবলকয়েন হলো এমন এক ধরনের ডিজিটাল মুদ্রা, যার মূল্য সাধারণত মার্কিন ডলারের মতো প্রচলিত কোনো মুদ্রার সঙ্গে যুক্ত রাখা হয়। অন্যদিকে, টোকেনভিত্তিক আমানত হলো ব্যাংকে জমা অর্থের ডিজিটাল রূপ, যা টোকেনের মাধ্যমে লেনদেন করা যায়।

লিম সুন চংয়ের মতে, স্টেবলকয়েনের অন্যতম সুবিধা হলো, এটি শুধু ব্যাংকের মাধ্যমেই নয়, অর্থ লেনদেনের বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেও ব্যবহার করা যায়। ফলে আন্তর্জাতিক লেনদেন ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

জরিপে নতুন বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপর রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এবং তৃতীয় অবস্থানে ভারত।

এদিকে, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকের বেশি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনে চীনের মুদ্রা রেনমিনবি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছেন তারা।

ডিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, রেনমিনবির মূল্য বৃদ্ধি এবং চীনা রপ্তানিকারকদের এ মুদ্রায় লেনদেনে তুলনামূলক আকর্ষণীয় বাণিজ্যিক শর্ত দেওয়ার প্রবণতা এর ব্যবহার বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনে রেনমিনবির ব্যবহার বাড়াতে চীনা কর্তৃপক্ষও কাজ করছে। ফলে আগামী দিনে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ডিজিটাল অর্থের পাশাপাশি বিকল্প মুদ্রায় লেনদেনের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।

#জাতীয়#সংবাদ
শেয়ার করুন
আমাদের অনুসরণ করুন Facebook YouTube X Instagram