স্তন ক্যান্সারের যেসব লক্ষণ অবহেলা করা বিপজ্জনক

২৪ঘণ্টা অনলাইন : স্তনে ব্যথাহীন পিণ্ড, ত্বকে গর্তের মতো দাগ, স্তনবৃন্ত ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিক নিঃসরণ—এসব পরিবর্তন স্তন ক্যান্সারের সতর্কসংকেত হতে পারে। তাই স্তনের স্বাভাবিক গঠন বা আকৃতিতে নতুন কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্তন ক্যান্সার হলেই যে ব্যথা বা স্পষ্ট পিণ্ড দেখা দেবে, এমন নয়। বিশেষ করে রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। এ কারণে স্তনের স্বাভাবিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্ক্রিনিং করানো গুরুত্বপূর্ণ।
স্তনে নতুন পিণ্ড দেখা দিলে সতর্ক হোন : স্তন বা বগলের নিচে নতুন কোনো পিণ্ড বা চাকা অনুভূত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পিণ্ডটি ব্যথাহীন হলেও তা অবহেলা করা ঠিক নয়। তবে স্তনে পিণ্ড দেখা দিলেই ক্যান্সার হয়েছে, এমন নয়। বিভিন্ন নিরীহ কারণেও এমন হতে পারে।
ত্বকের পরিবর্তন খেয়াল করুন : স্তনের ত্বকে গর্তের মতো দাগ, কুঁচকে যাওয়া, লালচে ভাব, আঁশ ওঠা কিংবা ত্বক মোটা হয়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। কখনো ত্বক কমলার খোসার মতো অমসৃণও হয়ে যায়। এসব পরিবর্তন নতুন হলে বা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
স্তনবৃন্তের অস্বাভাবিকতা অবহেলা নয় : স্তনবৃন্ত হঠাৎ ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া, এর অবস্থান পরিবর্তন কিংবা অস্বাভাবিক নিঃসরণ সতর্কতার সঙ্গে দেখা উচিত। বিশেষ করে বুকের দুধ ছাড়া রক্ত বা স্বচ্ছ তরল বের হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ব্যথা না থাকলেও পরীক্ষা করান : স্তন ক্যান্সার সব সময় ব্যথা সৃষ্টি করে না। তাই ব্যথা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আবার স্তনে ব্যথা হলেই ক্যান্সার হয়েছে, এমনটিও নয়। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সচেতনতা ও নিয়মিত স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ : নিজের স্তনের স্বাভাবিক গঠন ও অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানাতে হবে। বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং করানো উচিত।
মনে রাখতে হবে, স্তনের বেশিরভাগ পরিবর্তনই ক্যান্সারের কারণে হয় না। তবে নতুন বা অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসার সুযোগও বাড়তে পারে।
