জাতীয়

দেশে ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হচ্ছে প্রায় ৪৭ শতাংশ কিশোরীর: ইউনিসেফ

২০ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৭:০৩ PM
দেশে ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হচ্ছে প্রায় ৪৭ শতাংশ কিশোরীর: ইউনিসেফ

২৪ঘণ্টা অনলাইন : বাংলাদেশে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে প্রায় অর্ধেক কিশোরীর। বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই।

শিশুবিবাহ বন্ধ, মেয়েদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল।

তিন দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে তিনি শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় তিনটি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এগুলো হলো—শিশুবিবাহ বন্ধ করে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ বিনিয়োগের সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

ঢাকার কড়াইল বস্তি পরিদর্শনের সময় রাসেল শিশু ও অভিভাবকদের কাছ থেকে দারিদ্র্য, শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা এবং মৌলিক সেবার সীমিত সুযোগের কথা শোনেন। সেখানে বুশরা নামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের উদ্যোগে বুশরা শিশুবিবাহ থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে জানান রাসেল।

তিনি বলেন, মেয়েদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তাদের পাশাপাশি পুরো সমাজের ভবিষ্যৎও উজ্জ্বল হবে।

ইউনিসেফের মতে, শিশুবিবাহের কারণে অনেক মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি অল্প বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়ে এবং ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিশুবিবাহের সুযোগ তৈরি করে এমন আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন ক্যাথরিন রাসেল। এ সময় তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।

সফরের অংশ হিসেবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক। তিনি সংস্থাটির সহায়তায় পরিচালিত একটি শিক্ষাকেন্দ্রও পরিদর্শন করেন।

রাসেল বলেন, সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার কারণে রোহিঙ্গা শিশুরা অনেক কিছু হারিয়েছে। তাদের যেন শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত হতে না হয়। শরণার্থী শিশুদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয় দেওয়া জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্যও আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

ইউনিসেফ জানায়, বাংলাদেশে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান, পুষ্টি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ও সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে তারা। তবে মানবিক সহায়তার তহবিল কমে যাওয়ায় জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

#জাতীয়#সংবাদ
শেয়ার করুন
আমাদের অনুসরণ করুন Facebook YouTube X Instagram