আজ মহাঅষ্টমীতে কুমারী পূজা

২৪ঘণ্টা অনলাইন : আজ মহাঅষ্টমী। দুর্গোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজা। এ উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দিরে চলছে বিশেষ পূজা-অর্চনা। শাস্ত্রীয় রীতি অনুসারে, কুমারী বালিকার মধ্যে দেবী দুর্গার মাতৃরূপ কল্পনা করে তাঁকে দেবী জ্ঞানে পূজা করেন ভক্তরা। রামকৃষ্ণ মিশনেও অনুষ্ঠিত হচ্ছে কুমারী পূজা।
হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত এক থেকে ১৬ বছর বয়সী অবিবাহিত কন্যাকে কুমারী হিসেবে পূজা করা হয়। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণের শিক্ষা অনুযায়ী, শুদ্ধাত্মা কুমারীর মধ্যে দেবীর রূপের প্রকাশ বিশেষভাবে অনুভব করা যায়। মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই এ পূজার অন্যতম উদ্দেশ্য।
শাস্ত্রমতে, বয়সভেদে কুমারীর বিভিন্ন নাম রয়েছে। এক বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা, দুই বছরে সরস্বতী, তিন বছরে ত্রিধামূর্তি, চার বছরে কালিকা, পাঁচ বছরে সুভাগা, ছয় বছরে উমা এবং সাত বছরে মালিনী নামে অভিহিত করা হয়। এভাবে বয়স অনুযায়ী ১৬ বছর পর্যন্ত কুমারীর বিভিন্ন নাম নির্ধারিত রয়েছে।
কুমারী পূজার জন্য নির্বাচিত কন্যাকে স্নান করিয়ে নতুন পোশাকে সাজানো হয়। কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দিয়ে সুসজ্জিত আসনে বসানো হয় তাঁকে। এরপর ষোড়শোপচারে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি ও দেবীস্তোত্রে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপ।
ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্যের পাশাপাশি কুমারী পূজায় নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের বার্তাও তুলে ধরা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, নারীর মাতৃরূপের মধ্য দিয়ে আদ্যাশক্তির প্রকাশ ঘটে। তাই কুমারী পূজার মাধ্যমে সমগ্র মাতৃজাতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এদিকে, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। দশমীর দিন বিকেল ৩টার পর থেকে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়েছে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে পলাশীর মোড় থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়ে সদরঘাটের ওয়াইজ ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।
