মোংলায় ৩ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

২৪ঘণ্টা অনলাইন : বাগেরহাটের মোংলায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী বাবুল মোল্লাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
১৩ অক্টোবর দুপুরে মোংলা পৌর শহরের প্রধান বাজার এলাকার ডাঃ আঃ সামাদ সড়কে মেসার্স রাকিবুল এন্টারপ্রাইজে এ অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় ৭৪ মণ ৩২ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়। পরে মাকড়ঢোন এলাকায় বাবুল মোল্লার ব্যক্তিগত বাসভবনেও তল্লাশি চালানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আক্তার সুমীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বাগেরহাট পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন, মোংলা থানা-পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটির মালিককে অর্থদণ্ড দেন।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, মোংলার বিভিন্ন বাজারে দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ পলিথিনের বেচাকেনা চলছে। তাঁদের দাবি, নিয়মিত নজরদারির অভাবে এ ধরনের ব্যবসা বন্ধ করা যাচ্ছে না। তবে নিষিদ্ধ পলিথিনের এই চালানের উৎস, সরবরাহকারী এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা অভিযানের পরও স্পষ্ট হয়নি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন অভিযানের সময় উপস্থিত থেকে নিষিদ্ধ পলিথিনের পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, নিষিদ্ধ পলিথিনের উৎপাদন, মজুত ও বিপণন দণ্ডনীয় অপরাধ। পলিথিন বর্জ্য নালা-নর্দমায় জমে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে মাটি ও জলজ পরিবেশের ক্ষতি করে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক শারমিন আক্তার সুমী জানান, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, শুধু খুচরা পর্যায়ে অভিযান ও জরিমানা নয়, নিষিদ্ধ পলিথিনের উৎস এবং সরবরাহব্যবস্থা শনাক্ত করাও জরুরি। তাঁদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি ও আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে মোংলাসহ সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় পলিথিন দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
