ইমপ্যাক্ট ব্যবসায় দেশীয় পুঁজি প্রবাহ বাড়ানোর তাগিদ
২৪ঘণ্টা অনলাইন

বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে নিতে দেশীয় মূলধনের প্রবাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ জন্য কার্যকর অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা, বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানো এবং ব্যাংক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা।
গত বুধবার রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে ‘স্কেলিং ইমপ্যাক্ট থ্রো ফাইন্যান্স’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহায়তায় আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসল পার্টনার্স এ বৈঠকের আয়োজন করে।
বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে টেকসই অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ৯৬০ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন টাকা। এর মধ্যে গ্রিন ফাইন্যান্সের পরিমাণ মাত্র ৬১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন টাকা, যা মোট অর্থায়নের প্রায় ৬ শতাংশ।
‘অ্যাকসেস টু গ্রিন ফাইন্যান্সিং’ (A2GF) কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত এ বৈঠকে অংশীদার হিসেবে ছিল ট্রুভালু বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইউএনসিডিএফ)। পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা ক্ষুদ্র ও সম্ভাবনাময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ, পুঁজি সংগ্রহ এবং অর্থায়নের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।
বৈঠকে বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আমিনা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে এখন প্রভাবভিত্তিক বিনিয়োগের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি কীভাবে বৃহৎ পরিসরে দেশীয় পুঁজি কাজে লাগানো যায়, সেটিই প্রধান প্রশ্ন। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যামিলি অফিস ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
লাইটক্যাসল পার্টনার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন ইসলাম তাঁর উপস্থাপনায় বলেন, বাংলাদেশে স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের অর্থায়ন ঘাটতি প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা তারও বেশি। এ ঘাটতি কমাতে সহায়ক বা ক্যাটালিটিক মূলধন ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। এতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ওয়ান ট্রুভ্যালুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক উইলেম গ্রিমিন্ক ‘ORE II Fund’ নিয়ে উপস্থাপনা দেন। এতে বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, প্রবৃদ্ধির পর্যায়ে থাকা অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রচলিত অর্থায়নের শর্ত পূরণ করতে না পারায় প্রয়োজনীয় মূলধন পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অর্থায়নের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা, সরাসরি বিনিয়োগ, বিনিয়োগ তহবিলের সঙ্গে যৌথ অর্থায়ন এবং ঝুঁকি ভাগাভাগির কার্যকর কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
ট্রুভালু বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শারাওয়াত ইসলাম বলেন, সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব সৃষ্টিকারী ব্যবসায় অর্থায়নে তাঁদের আগ্রহ রয়েছে। তবে প্রান্তিক পর্যায়ে মূলধন পৌঁছাতে দক্ষ অর্থায়ন পদ্ধতি, ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা, সহায়ক মূলধন, কার্যকর অংশীদারত্ব এবং প্রভাব পরিমাপের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বৈঠকে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান, করপোরেট সংস্থা, বাজার উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান, ফান্ড অব ফান্ডস, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিসহ ২০ জনের বেশি অতিথি অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ‘অ্যাকসেস টু গ্রিন ফাইন্যান্সিং’ (A2GF) একটি অর্থায়ন কর্মসূচি। এর লক্ষ্য, পরিবেশবান্ধব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে টেকসই অর্থায়ন প্রদানকারীদের সংযুক্ত করে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ করা।
