প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে নতুন নিয়ম, এলো ৭ শর্ত

২৪ঘন্টা অনলাইন : প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। বিতর্কিত কয়েকটি বিধান বাদ দিয়ে নতুন নীতিমালা জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন হলো, বদলি কমিটি থেকে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার বিধান বাতিল করা হয়েছে। এখন তাদের জায়গায় থাকবেন দুজন বিদ্যোৎসাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি।
নতুন নীতিমালায় উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় কমিটির কাঠামো আগের মতোই থাকছে। তবে জাতীয় কমিটির নেতৃত্বে এসেছে পরিবর্তন।
আগে জাতীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব। এখন থেকে এই দায়িত্ব পালন করবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি)।
শিক্ষক বদলিকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক করতে যুক্ত করা হয়েছে সাতটি নতুন শর্ত। এর মধ্যে রয়েছে—চাকরির ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ না হলে বদলির সুযোগ নেই। একবার বদলি হলে তিন বছর না পেরিয়ে আবার বদলির আবেদন করা যাবে না।
শুধু শূন্য পদেই বদলি হবে। আবেদন ছাড়া কোনো শিক্ষককে বদলি করা যাবে না। তবে জনস্বার্থে জাতীয় কমিটির অনুমোদনে ব্যতিক্রম করা যাবে।
যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে বা শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০-এর বেশি, সেখান থেকে বদলি করা যাবে না। একই বিদ্যালয় থেকে একাধিক আবেদন এলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অগ্রাধিকার পাবেন।
এ ছাড়া একটি বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ তিনজন শিক্ষককে সংযুক্তি পদায়ন করা যাবে। নারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা বা স্বামীর বাড়ির কাছাকাছি বিদ্যালয়ে বদলিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার বৈঠক করবে। সেখানেই বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি করা হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শিক্ষক বদলিতে তদবির, অনিয়ম ও বাণিজ্য অনেকটাই কমে আসবে।
