জুবিনের স্মৃতি নিয়ে পর্দায় আসছেন প্রীতম

২৪ঘন্টা অনলাইন : জুবিন গার্গকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন পরিচালক প্রীতম বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পরিচালনায় একাধিক ছবিতে গান গেয়েছিলেন এই অসমীয় শিল্পী। সেই ঘনিষ্ঠতা থেকেই জুবিনকে নিয়ে ছবি বানানোর সিদ্ধান্ত প্রীতমের। ছবির নাম 'লভ ইউ জুবিনদা'।
'ইডিয়ট', 'খোকা ৪২০', 'খিলাড়ি'সহ বেশ কিছু ছবিতে প্রীতমের পরিচালনায় গান গেয়েছিলেন জুবিন। রেকর্ডিংয়ের জন্য প্রায়ই গুয়াহাটি যেতেন প্রীতম। সেখানে জুবিনের আতিথেয়তা দেখে মুগ্ধ হতেন তিনি।
প্রীতম বলেন, "রেকর্ডিংয়ের পরে জুবিনদা নিজেই রান্না করে খাওয়াতেন। বাতাবি লেবুর পাতা দিয়ে মুরগির মাংস রাঁধতেন। রাতবিরেতে গুয়াহাটির রাস্তা ঘুরিয়ে দেখাতেন। ভোর হলে নিজেই গাড়ি চালিয়ে হোটেলে পৌঁছে দিতেন।"
রাতের সফরে বের হলে জুবিন পুরো পারিশ্রমিক বিলিয়ে দিতেন গরিব মানুষদের। প্রীতম বলেন, "নিজে চোখে দেখেছি। সদ্য পারিশ্রমিক পেয়েছেন, কিন্তু রাস্তায় বের হয়ে সব দিয়ে দিতেন। কেউ ঘুমিয়ে থাকলে তাঁর চাদরের নিচে টাকা রেখে আসতেন।"
একবার এক বৃদ্ধার পিঠার দোকানে গিয়েছিলেন দুজনে। ১০০ টাকার পিঠা খেয়ে জুবিন বিনা গণনায় দুই হাজার টাকা দিয়ে দিলেন। এমনটা নিয়মিত করতেন তিনি। শীতের রাতে গরিব মানুষের গায়ে নিজে কম্বল বিছিয়ে দিতেন।
প্রীতম বলেন, "তিনি গাইলে গান সফল হয়ে যেত। সঙ্গীত পরিচালকের কেরিয়ার তৈরি হয়ে যেত। একজন শিল্পীর মন এত বড় হওয়া উচিত।"
২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে প্রয়াত হন জুবিন। মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগেও কথা হয়েছিল প্রীতমের সঙ্গে। ২৬ সেপ্টেম্বর দেখা হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই এলো দুঃসংবাদ।
মৃত্যুর পর অসমজুড়ে নামে শোকের ঢল। রাজ্য বন্ধ ছিল সাত দিন। এক মাস আমিষ খাননি বহু মানুষ। মাংসের দোকানও বন্ধ ছিল অনেক জায়গায়। সবটাই স্বেচ্ছায়।
প্রীতম বলেন, "অসমের কোন সন্তান পড়াশোনা করতে পারছে না, কার মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না, কার চিকিৎসা হচ্ছে না—সব খবর থাকত জুবিনদার কাছে। তিনি প্রত্যেকের পাশে দাঁড়াতেন। এমন মানুষ আর কোথায়?"
জুবিনের স্ত্রী গরিমা শৈকিয়ার অনুমতি নিয়েই ছবি বানাচ্ছেন প্রীতম। তিনি বলেন, "গরিমাদি শুধু স্ত্রী নন, জুবিনদার সহযোদ্ধা। আজও কথা বলতে গেলে কেঁদে ফেলেন। খুব একলা হয়ে গেছেন।"
