আমন মৌসুম পিছিয়ে যাচ্ছে

২৪ঘন্টা অনলাইন : দেশের বিভিন্ন জেলায় শুরু হচ্ছে আমন ধানের মৌসুম। কোথাও জমিতে রোপণ করা হচ্ছে ধান, আবার কোথাও চারা রোপণ চলছে।
এরই মধ্যে দেশের উত্তরের নিম্নাঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস দেখা দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে আমন ধানের মৌসুম পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষিসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আমন মৌসুম পিছিয়ে গেলে সেটি কৃষির পুরো সার্কেলই পরিবর্তন করে দিতে পারে। এতে শীতকালীন সবজি ও পরের বোরো ধানের মতো বিভিন্ন ফসল চাষের মৌসুমে প্রভাব ফেলতে পারে।
গত ২১ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত ১০ দিনের পূর্বাভাসে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে ২৮ জুন পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
তবে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ সময়ে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীগুলোর পানি সমতল সামগ্রিকভাবে বাড়তে পারে, তবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের নদীগুলোর পানি বাড়তে পারে। বার্তায় বলা হয়, আগামী রোববার পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এ সময়ে স্থানভেদে সর্বোচ্চ ৩৫০-৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।
২৪ জুন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীরণ কেন্দ্রের এক পূর্বাভাসে বলা হয়, তিস্তা নদীর ডালিয়া (নীলফামারী), কাউনিয়া (রংপুর) ও তারাপুর (গাইবান্ধা) স্টেশনে, সুরমা নদী ছাতক (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে, কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে এবং সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) স্টেশনে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
আরো বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীগুলোর পানি সমতলভাবে বেড়েছে, যেটি আগামী পাঁচদিন অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী চতুর্থ ও পঞ্চম দিন ব্রহ্মপুত্র নদ কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতলভাবে বেড়েছে। যেটি আগামী পাঁচদিন অব্যাহত থাকতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি সমতলভাবে বেড়েছে, যা তিনদিন আরো বাড়তে পারে। এ সময়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় এসব নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে শুরু হচ্ছে আমন মৌসুম। এ সময়ে উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আমন মৌসুম পিছিয়ে যেতে পারে। এমনটি হলে কৃষি সার্কেলে যেটির প্রভাব পড়বে। আমন মৌসুম পিছিয়ে গেলে আগামী শীতকালীন সবজি ও বোরো মৌসুমের সার্কেলেও প্রভাব পড়তে পারে।
এ বিষয়ে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এখন কোথাও কোথাও আমনের চারা দেয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে চারা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে বন্যা পরিস্থিতি যদি অল্পদিন স্থায়ী হয় তাহলে কৃষকরা সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন। এতে কৃষির উৎপাদন কিংবা সার্কেলে কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে বন্যা পরিস্থিতি বেশিদিন থাকলে আমন মৌসুম পিছিয়ে যেতে পারে। এমনটি হলে উৎপাদনের পাশাপাশি ফসলের সার্কেলেও প্রভাব পড়বে।’
