সংবাদ

রাত পোহালেই ভোট

২ নভেম্বর, ২০২৬ এ ৫:৪০ PM
রাত পোহালেই ভোট

২৪ঘণ্টা অনলাইন : সারাদেশজুড়ে বইছে ভোট–উৎসবের আমেজ। ঢাকার চিত্রও যেন পাল্টে গেছে। কমেছে যানজট, নেই চিরচেনা ধাক্কাধাক্কি। হর্নমুখর রাজধানীতে এখন এক ধরনের শান্ত–স্নিগ্ধ পরিবেশ। স্বস্তির হাওয়া বইছে নগরজুড়ে। রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

গত দুই দিনে বিপুলসংখ্যক উৎসাহী ভোটার নিজ নিজ এলাকায় ছুটে গেছেন। প্রিয় প্রার্থীকে ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন তারা। দীর্ঘদিন পর ভোটারদের মধ্যে সত্যিই ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হবে ভোটগ্রহণ। চলবে টানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও।

ইলেকশন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি সংস্থাটির। সারাদেশে প্রায় ৪২ হাজার ৯৫৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা।

এবারের নির্বাচনে প্রধান দুই শক্তি হিসেবে মাঠে রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) এবং জামায়াত–এ–ইসলামি নেতৃত্বাধীন জোট। বিএনপি প্রায় সব আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বিভিন্ন জরিপে দলটি এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে চিত্র বদলে যাওয়ার ইঙ্গিতও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।

এই নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক নজরদারি রয়েছে। বহির্বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভোট কতটা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনী প্রচারণা প্রচারণা শেষ হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায়। ভোটের প্রস্তুতি এখন শেষ ধাপে। ইসি বলছে, নির্বাচন নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই এবং তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ ও দ্রুত ফলাফল ঘোষণার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দুটিই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে চলেছে।

বাংলাদেশে নির্বাচনের নিছ্ছিদ্র নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সংবিধান ও আইনের অধীনে বেশ কিছু কাঠামোগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। সংক্ষেপে প্রধান দিকগুলো হলো—

১. সাংবিধানিক স্বাধীন নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ভোটের সময়সূচি ঘোষণা, তফসিল, আচরণবিধি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পূর্ণ ক্ষমতা ইসির হাতে থাকে।

২. আচরণবিধি ও নজরদারি

প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের জন্য কঠোর আচরণবিধি প্রযোজ্য। লঙ্ঘন হলে জরিমানা, সতর্কবার্তা বা প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে। মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মনিটরিং টিম দায়িত্ব পালন করে।

৩. আইন–শৃঙ্খলা ব্যবস্থা

পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। নির্বাচনী এলাকায় অস্ত্র প্রদর্শন ও বৈধ অস্ত্র বহনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

৪. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ

ভোটকেন্দ্র পরিচালনায় প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ। নির্বাচনী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি বা দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়, যাতে প্রভাবমুক্ত পরিবেশ থাকে।

৫. পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম

দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগের সুযোগ থাকে। গণমাধ্যমকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও প্রতিবেদন করার অনুমতি দেওয়া হয়।

৬. প্রযুক্তির ব্যবহার

কিছু নির্বাচনে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার করা হয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ছবি সংবলিত তালিকা প্রণয়ন করা হয়।

শেয়ার করুন
আমাদের অনুসরণ করুন Facebook YouTube X Instagram