সারাদেশ

আতঙ্ক বাড়াচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র

আতঙ্ক বাড়াচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র

২৪ঘণ্টা অনলাইন : কোথাও ময়লার স্তূপে আবার কোথাও ঝোপঝাড়ে মিলছে আগ্নেয়াস্ত্র। সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিদের ফেলে যাওয়া অস্ত্রও উদ্ধার হচ্ছে। গেল এক মাসে সিলেটে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির অভিযানে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

সচেতন মহলের ধারণা নির্বাচন সামনে রেখে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে অপরাধীরা ব্যবহার করতে পারে চোরাই পথে আসা এসব অস্ত্র। সীমান্তের ওপার থেকে চোরাইপথে আগেও অস্ত্র ধরা পড়েছে। ফের চোরাইপথগুলো সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা বিজিবির। এজন্য অস্ত্র চোরাচালানের পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করার কাজে নেমেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এরই মধ্যে কয়েকটি পয়েন্টও চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে বিজিবি।  সিলেট বিভাগের তিন দিক ভারত সীমান্তঘেঁষা।

 একদিকে আসাম, ত্রিপুরা; অন্যদিকে মেঘালয়। মেঘালয়ঘেঁষা সীমান্তের বেশ কয়েকটি স্থান অস্ত্র চোরাকারবারের জন্য পরিচিত। এসব সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অস্ত্র এনে চোরাকারবারিরা পৌঁছে দেয় সারা দেশে। সীমান্ত দিয়ে মাঝেমধ্যে আসা অস্ত্র ধরা পড়ে, তবে বেশির ভাগই থেকে যায় অধরা। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষের দিকে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সিলেটে আসে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডারদের হাতে এসব অবৈধ অস্ত্র দেখা গেছে।

বিজিবি সিলেট ব্যাটালিয়ন সর্বশেষ ২৭ আগস্ট দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী মাওলারপাড় ব্রিজসংলগ্ন একটি বরই গাছের নিচ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় আমেরিকার তৈরি একটি রিভলবার ও ছয় রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে। দোয়ারাবাজার সীমান্ত অনেক আগে থেকেই অস্ত্র চোরাকারবারের রুট হিসেবে পরিচিত। এর আগে ২৪ আগস্ট জাফলং চা-বাগানসংলগ্ন কাটারী সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতের তৈরি চারটি নতুন এয়ারগান উদ্ধার করে বিজিবি। পাখি শিকারের জন্য এসব এয়ারগান ব্যবহৃত হলেও সিলেটে বিভিন্ন সংঘাত-সংঘর্ষে এসব এয়ারগান ব্যবহার হতে দেখা গেছে। ২১ আগস্ট জগন্নাথপুর উপজেলার ইসহাকপুর গ্রামের এলাইছ মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় একটি একনলা বন্দুক, দুইটি পাইপগান ও এক রাউন্ড কার্তুজ। 

অবৈধ অস্ত্র নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সিলেট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদুল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে হলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান চালাতে হবে। এ ছাড়া সীমান্তের ওপার থেকে যাতে অস্ত্র আসতে না পারে কিংবা কোনো উগ্র গোষ্ঠী বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারে সে ব্যাপারে কড়া নজরদারি চালাতে হবে।

নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন সুযোগ পেলেই দুষ্কৃতকারীরা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে। এই সময়টা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

বিজিবি সিলেট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ঢুকলে দেশের ভিতর অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে বিজিবি সীমান্তে কাজ করছে। অস্ত্র চোরাচালানের রুটগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি রুট চিহ্নিতও হয়েছে। সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

 

শেয়ার করুন
আমাদের অনুসরণ করুন Facebook YouTube X Instagram
আতঙ্ক বাড়াচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র | ২৪ঘণ্টা