গণধর্ষণ-কাণ্ডের ভিডিয়োর ‘চাহিদা’ তুঙ্গে

২৪ঘণ্টা অনলাইন : মিনিট ক্ষীণ অংশ পর্যন্ত ঘন ঘন এই ভিডিয়ো সংক্রান্ত সার্চ হয়েছে । গণধর্ষণ-কাণ্ডের পরে অনলাইনে ভিডিয়োর ‘চাহিদা’ তুঙ্গে, প্রযুক্তির হাতছানি নাকি বিকৃত মানসিকতা?
আরজি কর কাণ্ডের পর কেটে গিয়েছে ১১ মাস। এ বার শিক্ষাক্ষেত্রে গণধর্ষণের মতো নারকীয় ঘটনার সাক্ষী কলকাতা। গত ২৫ জুন নিজের কলেজেই ধর্ষিতা হয়েছেন এক তরুণী। কসবা গণধর্ষণ-কাণ্ড নিয়ে প্রতিবাদ-প্রতিরোধে উত্তাল শহর। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে তিন অভিযুক্ত। চলছে তদন্ত। আর এই ঘটনার সূত্র ধরেই সংগঠিত হচ্ছে অন্য এক অপরাধ। নির্যাতিতা তরুণী এফআইআর-এ জানিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে হওয়া নির্মম অত্যাচারের ভিডিয়ো রেকর্ডিং করেছে অভিযুক্তরা। ঘটনার মূল অভিযুক্তের মোবাইল থেকে সেই ভিডিয়ো উদ্ধারও করেছে পুলিশ। আর এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই অনলাইনে সেই ভিডিয়োর খোঁজ শুরু হয়েছে। ‘কলকাতা ল’কলেজ রেপ ভিডিয়ো’ সার্চ রীতিমতো ট্রেন্ড করছে গুগলে। গুগল বলছে, ২৭ জুন বিকেল ৩.৩০ থেকে ২৮ জুন দুপুর ১.৩০ মিনিট পর্যন্ত ঘন ঘন এই ভিডিয়ো সংক্রান্ত সার্চ হয়েছে । পরের দিন, অর্থাৎ ২৯ জুনও গুগলে খোঁজ চলেছে এই ‘রেপ ভিডিয়ো’র ।
এই ধরনের ‘রেপ ভিডিয়ো’র ট্রেন্ড প্রথম নয়। এর আগে আরজি কর কাণ্ডের সময়ও আলোড়ন ফেলেছিল নির্যাতিতার নাম দিয়ে ধর্ষণের ভিডিয়ো সার্চ। শুধু তাই নয়, পর্নসাইটগুলিতেও খোঁজা হচ্ছিল আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের ভিডিয়ো। ফের ধর্ষণের ভিডিয়োর ‘চাহিদা’ আকাশছোঁয়া। প্রশ্ন উঠছে, এই ধরনের নিম্নরুচির ঘটনা কেন ঘটছে বার বার? আটকানোর কি কোনও উপায় নেই?
সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞ কিঞ্জল ঘোষ এই ঘটনার নেপথ্যে বিকৃত মস্তিষ্ককেই দায়ী করছেন। পাশাপাশি তিনি বোঝালেন, কেন এই ধরনের ভিডিয়ো অনলাইনে সহজলভ্য হয়ে উঠছে। তাঁর কথায়, ‘এই বিষয়টিকে আটকানো খুব শক্ত। তার কিছু কারণও রয়েছে। এই যে ঘটনা ঘটছে, তার অন্যতম মাধ্যম ‘অনিয়ন’। অর্থাৎ এর একটা মূল উৎস আছে। তার উপরে পেঁয়াজের খোসার মতো নানা স্তর থাকে। নানা শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে আছে। পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষে সেই পেঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে উৎসে পৌঁছনো খুব কঠিন। এ ছাড়া এখানে ‘অরবট’ বলে একটা সার্ভিস আছে। এই ‘অরবট’ অন করে যদি কেউ সার্চ করেন, তা হলে কারও পক্ষে বোঝা সম্ভব নয় ব্যবহারকারী কোথায় বসে এসব খুঁজছেন। হতে পারে কেউ হয়তো খোদ কলকাতায় বসেই এ সব করছেন। কিন্তু তদন্তে নামলে দেখাবে সাউথ আফ্রিকার সার্ভার ব্য়বহার করছেন ওই ইন্টারনেট ইউজ়ার।’
এই ক্রাইম আটকানোর পথ কী?
এই ধরনের কিছু সাইট কেন্দ্রীয় সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু নতুন করে সাইট তৈরি হতেও সময় নেয়নি। আবার পুরোনো কিছু সাইটও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। একই কথা বলছেন কিঞ্জলও। তাঁর কথায়, ‘কিছু সাইট এখনও অ্যাক্টিভ রয়েছে, যেগুলি নর্মাল ব্রাউজ়ার দিয়ে ওপেন হবে না। তেমনই অসংখ্য ব্রাউজ়ার রয়েছে, যেগুলি ব্যবহার করে এই ধরনের সাইটে পৌঁছনো যায়। আসলে যাঁরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বেশির ভাগই ‘অনিয়ন’, ‘অরবট’-এর মতো সার্ভিসের সঙ্গে পরিচিত।’
এমন ভিডিয়ো কি সত্যিই অনলাইনে থাকতে পারে?
সাইবার ক্রাইম নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা কিঞ্জল জানাচ্ছেন, হ্য়াঁ—— থাকতে পারে। বিশ্বের আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, গণধর্ষণের মতো ঘৃণ্য় অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে। প্রতিটি ঘটনার কথা প্রকাশ্যেই আসে না। কিঞ্জলের কথায়, ‘শুধু ধর্ষণের মুহূর্ত বলে নয়, অনলাইনে নানা অশ্লীল ভিডিয়ো ছড়িয়ে আছে। দিন কয়েক আগেই একটি ঘটনা প্রকাশ্যে আসে যেখানে দুই সন্তানকে প্রতিপালনের অর্থ রোজগারের জন্য এক দম্পতি তাঁদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিয়ো বিশেষ কিছু সাইটে আপলোড করেন। এত কিছু হচ্ছে যখন, তখন কি আর আঁতকে ওঠা কিংবা চমকে ওঠার কোনও জায়গা আছে?’
