২৫ সেন্টিমিটারের ছোট ইলিশ ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ
দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে জাটকা আহরণে আট মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ সময়ে ২৫ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের ইলিশ (জাটকা) ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বাগেরহাট প্রতিনিধি: দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে জাটকা আহরণে আট মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ সময়ে ২৫ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের ইলিশ (জাটকা) ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে বাগেরহাটসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালীসহ সংশ্লিষ্ট নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকা। বিশেষ করে বাগেরহাটের মোংলা, রামপাল, শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ এবং সুন্দরবনসংলগ্ন নদ-নদী ও মোহনায় জাটকা সংরক্ষণে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাগর ও নদ-নদীতে জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মৎস্য অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে অভিযান পরিচালনা করবে।
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে গত ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন দেশব্যাপী মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালিত হয়। ওই সময়ে মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজননের সুযোগ তৈরি করতে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও কেনাবেচা বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রজনন মৌসুম শেষে নদ-নদী ও উপকূলীয় মোহনায় জন্ম নেওয়া ইলিশের পোনা এখন বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জাটকা বড় হওয়ার জন্য এ সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোট অবস্থায় নির্বিচারে জাটকা আহরণ বন্ধ করা গেলে সেগুলো পরিণত ইলিশে রূপ নেওয়ার সুযোগ পাবে। এতে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়বে।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা আহরণ, পরিবহন, মজুত কিংবা বিক্রি করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। নিষিদ্ধ কারেন্ট জালসহ ক্ষতিকর জাল ব্যবহার বন্ধেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এদিকে আট মাসের নিষেধাজ্ঞায় বাগেরহাটসহ উপকূলীয় জেলাগুলোর নদী ও সাগরনির্ভর জেলেদের জীবিকায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে মোংলা, শরণখোলা ও মোড়েলগঞ্জের নদী-সংলগ্ন এলাকার জেলেরা এ নিষেধাজ্ঞার কারণে আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন। এ সময়ে নিবন্ধিত জেলে পরিবারগুলোর জন্য সরকারি খাদ্যসহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অভিযান ও শাস্তির মাধ্যমে জাটকা রক্ষা সম্ভব নয়। জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি, বিকল্প কর্মসংস্থান, নিয়মিত সরকারি সহায়তা এবং মাছের আড়ত ও বাজারে নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নদী ও উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ জাল ব্যবহার এবং জাটকা বেচাকেনা বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন ধরে রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে আট মাসের এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


