নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে এবার ১৬ লাখের বেশি প্রতিযোগী
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরে অংশ নিচ্ছে ১৬ লাখ ২৩ হাজার শিশু-কিশোর। আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবার আটটি খেলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস।

ছবি : সংগৃহীত২৪ঘন্টা অনলাইন: ২৪ঘন্টা অনলাইন : দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর। এবার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিবন্ধন করেছে ১৬ লাখ ২৩ হাজার শিশু-কিশোর। আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একই দিনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় অনলাইনে সম্প্রচার করা হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে এই প্রতিযোগিতা।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, দ্বিতীয় আসরে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। নিবন্ধিত প্রতিযোগীদের মধ্যে ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩৩ জন কিশোর এবং ৬ লাখ ৮৯ হাজার ১৩৫ জন কিশোরী।
এবার প্রতিযোগিতার পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। প্রথম আসরের আটটি খেলার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস। ফলে মোট ১০টি খেলায় নিজেদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পাবে অংশগ্রহণকারীরা।
বিকেএসপিতে স্থায়ীভাবে সুযোগ পাচ্ছে ৪০ প্রতিভাবান খেলোয়াড়
প্রতিযোগিতার প্রথম আসর থেকে উঠে আসা প্রতিভাদের জন্যও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। প্রথম আসরে অংশ নেওয়া প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার শিশু-কিশোরের মধ্য থেকে ৩১০ জনকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের জন্য বাছাই করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্য থেকে ৪০ জনকে স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
নির্বাচিতদের মধ্যে ২৮ জন কিশোরী এবং ১২ জন কিশোর। আগামী জানুয়ারি থেকে তাদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলাসংক্রান্ত যাবতীয় দায়িত্ব বহন করবে সরকার।
জেলা পর্যায়েও বাড়ছে প্রশিক্ষণের সুযোগ
দ্বিতীয় আসরে বাছাই হওয়া খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ আরও বিস্তৃত করতে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের বিকেএসপিগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিজ নিজ বিভাগ ও জেলায় রেখেই উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। এতে জাতীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও ক্রীড়া অবকাঠামোর ব্যবহার বাড়বে।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে আগামী মে-জুনের মধ্যে ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন সম্পন্ন করা হবে। দ্বিতীয় আসরের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরপরই তৃতীয় আসরের প্রস্তুতিও শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তৃণমূলের বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে এবারের নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শুধু প্রতিযোগিতার আয়োজন নয়, বরং ভবিষ্যৎ ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করে তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের আওতায় আনার একটি বড় উদ্যোগ হিসেবেও সামনে আসছে।


