ঋতু পরিবর্তনে বিষণ্ণতা বাড়ে কেন, কাটাবেন যেভাবে

২৪ঘণ্টা অনলাইন : ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে অনেকের মন খারাপ, ক্লান্তি, ঘুমের পরিবর্তন ও কাজে অনীহা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শরৎ থেকে শীতকালে প্রবেশের সময় দিনের আলো কমে যাওয়ায় কারও কারও মেজাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্যা মৌসুমি বিষণ্ণতা বা সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার (এসএডি) হিসেবে দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যালোকের পরিবর্তন, ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ এবং মস্তিষ্কের কিছু রাসায়নিক কার্যক্রমের সঙ্গে মৌসুমি বিষণ্ণতার সম্পর্ক থাকতে পারে।
সূর্যালোক কমলে মেজাজে প্রভাব পড়ে কেন?
শীতকালে দিনের দৈর্ঘ্য কমে গেলে শরীরের ঘুম ও জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দে পরিবর্তন আসতে পারে। ঘুম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা মেলাটোনিন হরমোনের কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে। ফলে কারও কারও বেশি ঘুম পাওয়া, ক্লান্তি ও কাজে অনীহার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
এ ছাড়া মস্তিষ্কের সেরোটোনিন নামের রাসায়নিক উপাদান মেজাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দিনের আলোর পরিবর্তনের সঙ্গে এর কার্যক্রমের সম্পর্ক থাকায় কিছু মানুষের মধ্যে বিরক্তি, মন খারাপ ও বিষণ্ণতার অনুভূতি বাড়তে পারে।
জৈবিক ঘড়ির ছন্দে পরিবর্তন
দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য বদলালে শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমে প্রভাব পড়তে পারে। এতে ঘুমানোর সময়, ঘুম থেকে ওঠা এবং দৈনন্দিন কাজের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন ঘুমের অনিয়ম চলতে থাকলে মানসিক সুস্থতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও কি দায়ী?
সূর্যালোকের সংস্পর্শে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। শীতকালে বাইরে কম যাওয়া বা পর্যাপ্ত আলো না পাওয়ার কারণে কারও শরীরে এ ভিটামিনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কিছু গবেষণায় ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির সঙ্গে বিষণ্ণতার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এই ঘাটতিই বিষণ্ণতার একমাত্র কারণ—এমন প্রমাণ নেই।
মৌসুমি বিষণ্ণতা কমানোর উপায়
১. দিনের আলোতে সময় কাটান: সকালে বাইরে হাঁটুন এবং ঘরে প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের ব্যবস্থা রাখুন। নিয়মিত দিনের আলোতে থাকা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
২. নিয়মিত ব্যায়াম করুন: প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন। শারীরিক কার্যক্রম মেজাজ ভালো রাখতে ও মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক।
৩. পুষ্টিকর খাবার খান: মাছ, ডিম, বাদাম, শাকসবজি ও সুষম খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির আশঙ্কা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৪. ঘুমের সময় ঠিক রাখুন: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার কমানোও উপকারী হতে পারে।
৫. পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন: দীর্ঘ সময় একা না থেকে প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলুন এবং পছন্দের কাজে সময় দিন। এতে মানসিক চাপ সামলানো সহজ হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
ঋতু পরিবর্তনের সময় সাময়িক মন খারাপ হওয়া মানেই মৌসুমি বিষণ্ণতা নয়। তবে মন খারাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে, আগ্রহ কমে গেলে, ঘুম ও ক্ষুধায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিলে কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হলে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মৌসুমি বিষণ্ণতার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী মনোচিকিৎসা, ওষুধ কিংবা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে লাইট থেরাপি কার্যকর হতে পারে। উপসর্গ অবহেলা না করে সময়মতো সহায়তা নেওয়াই সুস্থ থাকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
