আল্লাহ ভালোবাসেন যে ৮ শ্রেণির মানুষকে
দুনিয়ার মানুষের ভালোবাসা একসময় হারিয়ে যেতে পারে

২৪ঘণ্টা অনলাইন: মানুষের জীবনে ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা চিরন্তন। কেউ চায় পরিবারের ভালোবাসা, কেউ চায় মানুষের কাছে সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা। কিন্তু একজন মুমিনের জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো মহান আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করা। কারণ, দুনিয়ার মানুষের ভালোবাসা একসময় হারিয়ে যেতে পারে, সম্মান-প্রতিপত্তিও চিরস্থায়ী নয়; কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর নৈকট্য অর্জনই একজন মুমিনের প্রকৃত সফলতা।
আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন, তারা হলেন,
১. যারা আন্তরিকভাবে তাওবা করে
মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। কখনো প্রবৃত্তির তাড়নায়, কখনো শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ পাপ করে বসে। তবে আল্লাহর প্রিয় বান্দা সেই ব্যক্তি, যে পাপের ওপর অবিচল না থেকে নিজের ভুল উপলব্ধি করে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে এবং নিজেকে সংশোধন করার চেষ্টা করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অধিক তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্রতা অর্জন করে তাদেরও ভালোবাসেন।” (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২২২)
২. যারা তাকওয়া অবলম্বন করে
তাকওয়া হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে তাঁর আদেশ পালন করা এবং তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকা। একজন মুত্তাকি শুধু মানুষের সামনে ভালো থাকার চেষ্টা করেন না; বরং নির্জনেও আল্লাহ তাঁকে দেখছেন—এই বিশ্বাস নিয়ে জীবন পরিচালনা করেন।তাঁর উপার্জন, কথাবার্তা, লেনদেন, পারিবারিক আচরণ ও ব্যক্তিগত জীবনেও আল্লাহভীতির প্রতিফলন থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৭৬)
৩. যারা সৎকর্ম ও উত্তম আচরণে অভ্যস্ত
ইসলামে সৎকর্মের পরিধি অনেক বিস্তৃত। আল্লাহর ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করা, অসহায়কে সাহায্য করা, ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া, মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করা, অন্যায়ের শিকার ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা—সবই সৎকর্মের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।
’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪)
৪. যারা ধৈর্য ধারণ করে
জীবন সব সময় মানুষের ইচ্ছামতো চলে না। কখনো অসুস্থতা, কখনো আর্থিক সংকট, কখনো প্রিয়জন হারানোর বেদনা, আবার কখনো মানুষের দুর্ব্যবহার সহ্য করতে হয়। এসব পরিস্থিতিতে যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস অটুট রাখেন, হারাম ও অন্যায়ের আশ্রয় নেন না এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে অবিচল থাকেন, তিনিই প্রকৃত ধৈর্যশীল। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৪৬)
৫. যারা আল্লাহর ওপর ভরসা করে
তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসা মুমিনের ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এর অর্থ এই নয় যে, মানুষ কোনো চেষ্টা করবে না, শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করার কথা বলবে। বরং নিজের সাধ্য অনুযায়ী বৈধ উপায় অবলম্বন করে ফলাফলের ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়াই প্রকৃত তাওয়াক্কুল। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর ওপর ভরসাকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)
৬. যারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে
ন্যায়বিচার শুধু বিচারকের দায়িত্ব নয়; বরং প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের অপরিহার্য কর্তব্য। পরিবারে, ব্যবসায়, কর্মক্ষেত্রে, সামাজিক সম্পর্ক ও বিবাদ মীমাংসায় ন্যায় বজায় রাখা জরুরি। নিজের স্বার্থ, আত্মীয়তা কিংবা কারো প্রতি বিরাগ যেন সত্য ও ন্যায়ের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচারকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৪২)
৭. যারা পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখে
ইসলাম বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ধরনের পবিত্রতার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। নামাজের জন্য পবিত্রতা অর্জন, শরীর ও পোশাক পরিষ্কার রাখা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং অন্তরকে অহংকার, হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করা একজন মুমিনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১০৮)
৮. যারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণ করে
আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ মুখে আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি করলেই সেই দাবি পূর্ণ হয় না; বরং তাঁর জীবন, চরিত্র, ইবাদত ও নির্দেশনার অনুসরণে সেই ভালোবাসার সত্যতা প্রকাশ পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমার অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৩১)
খানে বিস্তারিত সংবাদ লেখা শুরু করুন...
