জাতীয়

খামার ও বাজারে দামের বড় ফারাক

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:২৩ AM
খামার ও বাজারে দামের বড় ফারাক

২৪ঘণ্টা অনলাইন : ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। অথচ প্রান্তিক খামারিরা সেই মুরগি বিক্রি করছেন ১৩৪ টাকা কেজি দরে। একইভাবে খামারে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১০২ টাকা হলেও ঢাকার বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকায়। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য না থাকায় লোকসানে পড়ছেন পোলট্রি খামারিরা।

খামারি ও ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রে খামার ও খুচরা বাজারের দামের ব্যবধান কেজিতে ৫৬ টাকা। আর ডিমের ক্ষেত্রে প্রতি ডজনে এই ব্যবধান ৫৩ টাকা। ফলে উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যবর্তী বাজারব্যবস্থায় দামের এই পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রান্তিক খামারি শাফিউর রহমান জানান, চলতি সপ্তাহে তিনি প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৩৪ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। অথচ উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বাড়ছে। গত দুই মাসে মুরগির খাবারের দাম বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে ৫০ কেজির এক বস্তা খাবারের দাম ৩ হাজার ৭৮৫ টাকা। পাশাপাশি বেড়েছে ওষুধের দামও।

নিজের লোকসানের চিত্র তুলে ধরে শাফিউর রহমান বলেন, তিনি এক চালানে ১ হাজার ২০০টি মুরগি তুলেছিলেন। এর মধ্যে প্রায় এক হাজারটি বিক্রি করেছেন। ওই চালানেই তাঁর প্রায় ৫০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। কিছু মুরগি মারা গেছে, আর প্রায় ৭০ কেজি মুরগি এখনো খামারে রয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকার বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম ওঠানামার পেছনে সরবরাহের প্রভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকার মুরগি ব্যবসায়ী আফজাল বলেন, কাপ্তান বাজারে মুরগির সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কমে যায়। সরবরাহ কমলে দাম বেড়ে যায়। সেখানে রাত ও সকালের দরেও পার্থক্য দেখা যায়।

ডিম বিক্রিতেও বাড়তি লাভ নেই

ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি ডিম উৎপাদনেও বাড়তি ব্যয়ের চাপে রয়েছেন খামারিরা। লেয়ার খামারি আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি প্রতি পিস ডিম ৮ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করেছেন। সে হিসাবে খামার পর্যায়ে প্রতি ডজন ডিমের দাম দাঁড়ায় ১০২ টাকা।

অন্যদিকে, বুধবার (২১ অক্টোবর) ঢাকার বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হয়েছে ১৫৫ টাকায়। অর্থাৎ খামার ও খুচরা বাজারের মধ্যে প্রতি ডজনে দামের ব্যবধান ৫৩ টাকা।

আরিফুল ইসলাম বলেন, মুরগির খাবারের বস্তাপ্রতি দাম ৩২৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে এক বস্তা খাবারের দাম ২ হাজার ৯০০ টাকার বেশি। ডিম বিক্রি করে উল্লেখযোগ্য লাভ থাকছে না; আয় দিয়ে মূলত উৎপাদন খরচ মেটাতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খামারিদের মতে, খাদ্য ও ওষুধের দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হওয়ায় তাঁদের আর্থিক চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নতুন করে মুরগি তোলা, খাবার কেনা ও খামারের কার্যক্রম সচল রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

#জাতীয়#সংবাদ
শেয়ার করুন
আমাদের অনুসরণ করুন Facebook YouTube X Instagram