তিন বাহিনীকে একই বার্তা, ভাষানটেকে তল্লাশি

২৪ঘণ্টা অনলাইন : রাজধানীর ভাষানটেকের একটি বাসায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গুলি থাকার তথ্য পেয়ে একযোগে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে দীর্ঘ তল্লাশির পর সেখানে কোনো অস্ত্র বা গোলাবারুদ পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হয়েছে পিস্তলসদৃশ দুটি গ্যাস লাইটার।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার একটি বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে পুলিশ, র্যাব ও ডিবির কাছে একই ধরনের বার্তা পাঠানো হয়। বার্তায় ভাষানটেকের একটি নির্দিষ্ট বাসায় ১৩টি অবৈধ অস্ত্র, ৩০০ রাউন্ড গুলি ও ২৪টি ম্যাগাজিন থাকার দাবি করা হয়। অস্ত্রগুলো কোথায় রাখা হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়।
বার্তায় প্রেরক নিজেকে ‘মো. আবদুল্লাহ আল-আমিন শুভ’ হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন এবং অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি অস্ত্র ব্যবসায় জড়িত ছিলেন বলেও দাবি করেন। তবে এসব দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ওই তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর ভাষানটেকের বাগানবাড়ি এলাকার ১৬০/বি নম্বর ‘বিলাস ভবনে’ অভিযান চালানো হয়। র্যাব, পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা যৌথভাবে ভবনটির একটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান। তবে সেখানে কোনো অস্ত্র, গুলি বা ম্যাগাজিন পাওয়া যায়নি। পরে ‘শূন্য জব্দ তালিকা’ দিয়ে অভিযান শেষ করা হয়।
অভিযানে কেবল পিস্তলের মতো দেখতে দুটি গ্যাস লাইটার পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ওই বিদেশি নম্বরের ব্যবহারকারীকে ঘিরে। একই সময়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একই তথ্য পাঠানোর কারণ কী, কিংবা এর পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা পুলিশ।
ডিবির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার রাকিব খাঁন জানান, বিদেশি নম্বর থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদের তথ্য পাওয়ার পর তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে পুলিশ ও র্যাবের সদস্যদেরও উপস্থিতি পাওয়া যায়। তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহজনক কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, একই বার্তা ডিবি, পুলিশ ও র্যাবকে পাঠানো হয়েছিল। কেন একই সঙ্গে তিন বাহিনীকে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নম্বরটির ব্যবহারকারী এবং বার্তা পাঠানোর উদ্দেশ্য শনাক্তে অনুসন্ধান চলছে।
ভাষানটেক থানার ওসি আসলাম হোসেনও জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তল্লাশিতে কোনো অস্ত্র বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
র্যাব-৪ জানিয়েছে, ২৯ আগস্ট বিকেলে বাগানবাড়ি এলাকার ওই বাড়িতে অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান চালানো হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পরও কোনো অস্ত্র বা সন্দেহজনক বস্তু না পাওয়ায় শূন্য জব্দ তালিকা করা হয়।
এ ঘটনায় বিদেশি নম্বরটির প্রকৃত ব্যবহারকারী কে এবং কী উদ্দেশ্যে অস্ত্রের এমন তথ্য ছড়ানো হয়েছিল—তা এখন তদন্তের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাউকে ফাঁসানো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করা কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
