সিডও শ্যাডো রিপোর্ট চূড়ান্তে নাগরিক সমাজের মতবিনিময়

জাতিসংঘের নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) কমিটির কাছে জমা দেওয়ার জন্য সিডও শ্যাডো রিপোর্টের খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্তকরণে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৭ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ‘সিটিজেনস ইনিশিয়েটিভস অন সিডও, বাংলাদেশ (সিআইসি-বিডি)’ প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালায় নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মসূচির শুরুতে স্টেপসের নির্বাহী পরিচালক এবং সিআইসি-বিডি প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ক রঞ্জন কর্মকারের প্রয়াণে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রস্তাব পাঠ করা হয়। পরে তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।
সকলের মতামতের ভিত্তিতে প্রণীত সিডও শ্যাডো রিপোর্টের খসড়া উপস্থাপন করেন জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ফেরদৌসী সুলতানা বেগম। খসড়া উপস্থাপনের পর রিপোর্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশ নেন উইমেন ফর উইমেনের সভাপতি জাকিয়া কে. হাসান, ওয়ার্ল্ড ভিশনের স্ট্রেলা রুপা, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সালমা আলী, জাতিসংঘ সিডও কমিটির সাবেক সদস্য ফেরদৌস আরা বেগম, প্রাগ্রসরের ফওজিয়া খন্দকার, নারীপক্ষের কামরুন নাহার, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নাসরিন বেগম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের শারমিন আক্তার এবং ডেমোক্রেসি-ওয়াচের সানজিদা দীপ্তি।
এ ছাড়া বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির (এফপিএবি) হালিমা বেগম, গণসাক্ষরতা অভিযানের শামসুন নাহার, স্টেপ টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের শাহিদা ফেরদৌসি, বি-স্ক্যানের মোহাম্মদ ইফতেখার মাহমুদ, আইডির সঞ্চিতা তালুকদার এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উম্মে সালমা বেগম, রেখা সাহা, পারভীন ইসলাম ও সিউতি সবুরসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। মুক্ত আলোচনা শেষে বক্তব্য দেন ইউএন উইমেনের তপতী সাহা।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে সিডও শ্যাডো রিপোর্টের খসড়া চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জাতিসংঘের সিডও কমিটির কাছে পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
কর্মশালায় অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, ওয়াইডব্লিউসিএ অব বাংলাদেশ, দীপ্ত ফাউন্ডেশন, এএলআরডি, বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্র, কর্মজীবী নারী, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম ও বাউশিসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেত্রী ও কর্মকর্তারাও কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কর্মশালায় মোট প্রায় ৫২ জন অংশগ্রহণ করেন।
