প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে বাংলাদেশের চা, ৯ বছরে কমেছে রপ্তানি আয়

আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী চা শিল্প। কম উৎপাদনশীলতা ও বাড়তি উৎপাদন খরচের কারণে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাচ্ছে দেশের চা খাত। একই সঙ্গে কমছে চা রপ্তানি থেকে আয়।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ১ হাজার ৪০০ কেজি চা উৎপাদিত হয়। অথচ বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী কেনিয়ায় একই পরিমাণ জমিতে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কেজি এবং ভিয়েতনামে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ কেজি চা উৎপাদিত হয়।
অর্থাৎ উৎপাদনশীলতার দিক থেকে বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ উৎপাদন ব্যয়। দেশে প্রতি কেজি চা উৎপাদনে খরচ হচ্ছে প্রায় ২০০ থেকে ২২০ টাকা। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে চা বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
কমছে রপ্তানি আয়
উৎপাদন খরচ ও উৎপাদনশীলতার এই ব্যবধানের প্রভাব পড়ছে চা রপ্তানিতেও। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ চা রপ্তানি করে ৪ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছিল।
তবে পরবর্তী বছরগুলোতে রপ্তানি আয় কমতে কমতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ প্রায় এক দশকের ব্যবধানে চা রপ্তানি থেকে আয় কমেছে প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
আধুনিক প্রযুক্তিতে জোর দেওয়ার তাগিদ
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চায়ের হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধারে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য চা বাগানে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, উন্নত জাতের চারা ব্যবহার এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে জোর দেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ালেই হবে না; প্রতি হেক্টরে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রম, সার, কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণের ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে।
সমন্বিত নীতি জরুরি
আন্তর্জাতিক বাজারে কেনিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশের চা খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত নীতি প্রয়োজন। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, উৎপাদন খরচ পুনর্মূল্যায়ন এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চায়ের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দেশের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এখনই উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
