নিরাপত্তার স্বার্থে পরিবার থেকে দূরে মোজতবা

২৪ঘণ্টা অনলাইন : ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী ও গোপনীয়তার মধ্যে রয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও সঙ্গেই তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই—এমনকি নিজের পরিবারের সদস্যদের থেকেও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ইরানি সংবাদ সংস্থা ‘ইসনা নিউজ এজেন্সি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেছেন মোজতবা খামেনির শ্বশুর গোলাম আলী হাদ্দাদ আদেল।
সাক্ষাৎকারে হাদ্দাদ আদেল জানান, নিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকির কারণেই মোজতবা খামেনি নিজের স্বজনদের কাছ থেকে আলাদা রয়েছেন।
হাদ্দাদ আদেল বলেন, "সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর থেকে সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তার কারণে তিনি পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছেন না। তিনি বর্তমানে কেমন আছেন বা তাঁর হালনাগাদ তথ্য কী, তার কিছুই আমরা জানি না।"
জামাতার প্রশংসা করে তিনি আরও যুক্ত করেন যে, মোজতবার ব্যক্তিত্ব ও আচরণে তাঁর প্রয়াত পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির গভীর ছাপ রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-র প্রথম দিনেই বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই একই হামলায় মোজতবা খামেনি নিজেও গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে আহত অবস্থাতেই ১১ মার্চ তাঁকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করে ইরানি সরকার।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে মোজতবার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছিল বোমা হামলায় মারাত্মকভাবে আহত ও অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ফলে তাঁর কথা বলতে চরম অসুবিধা হচ্ছে।
বর্তমানে ইরানের প্রেসিডেন্ট (যিনি একজন হার্ট সার্জন) এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা চলছে।
শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি কোনো ভিডিও বার্তা দিচ্ছেন না; এর বদলে লিখিত বার্তার মাধ্যমে প্রশাসনিক নির্দেশনা পাঠাচ্ছেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে ইরানের শাসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তার সার্বিক তদারকি করছে দেশটির সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা 'ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর' (আইআরজিসি)। তবে আইআরজিসি পরিচালনা করলেও দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই মোজতবা খামেনিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে এবং তাঁর সম্মতি নিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
