জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলার দাবি

জর্ডানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল-রুকবান এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে কয়েকজন মার্কিন সেনাকে হত্যার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
২১ জুলাই প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত তাদের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন নাসর-২’-এর অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আল-রুকবান এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সেনাদের একটি আবাসিক কমপ্লেক্সকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।
আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের এই অভিযান সফল হয়েছে এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক তৎপরতার অংশ।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইআরজিসির দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ব্যাপক সামরিক উত্তেজনা শুরু হয়। প্রায় ৪০ দিন সংঘাত চলার পর এপ্রিলের শুরুতে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় জুন মাসে ইসলামাবাদে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
তবে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালীতে দুটি আমিরাতি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার পর আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলার জন্য আইআরজিসিকে দায়ী করে এবং ৭ জুলাই থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা শুরু করে।
এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। ফলে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।
