পাহাড়ে অবৈধ বসতি, বাড়ছে প্রাণহানির শঙ্কা

২৪ঘন্টা অনলাইন : কক্সবাজার শহর ও আশপাশের ৫১টি পাহাড়ে গড়ে উঠেছে প্রায় ২২ হাজার অবৈধ বসতি। এসব ঘরে বসবাস করছেন কয়েক লাখ মানুষ। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ায় তাদের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তায়।
চলতি সপ্তাহের ভারী বর্ষণে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন মাদ্রাসাছাত্রীও রয়েছেন। এক সপ্তাহেই চার শতাধিক ছোট-বড় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।
পরিবেশবাদীদের তথ্য বলছে, ২০০৮ সাল থেকে চলতি বছরের ৮ জুলাই পর্যন্ত পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১২ জন। এর মধ্যে ৫৪ জন রোহিঙ্গা। সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ২০১০ সালের ১৫ জুন। সেদিন একদিনেই মারা যান ৬২ জন।
বর্তমানে কক্সবাজারের পাহাড়তলী, বাদশাঘোনা, ছাত্তারঘোনা, খাজা মঞ্জিল, লারপাড়া ও টেকনাইফ্যা পাহাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড়ে ফাটলের শব্দ শুনেই আতঙ্কে থাকতে হয়। ঝুঁকি জানা থাকলেও বিকল্প আশ্রয় না থাকায় অনেকেই পাহাড় ছাড়তে পারছেন না।
পরিবেশবাদীদের দাবি, পৌরসভার পাঁচটি ওয়ার্ডের ৫১টি পাহাড়ে গত তিন দশকে ২২ হাজারের বেশি ঘর নির্মাণ হয়েছে। সেখানে দুই লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করছেন। এদের বেশিরভাগই নিম্নআয়ের শ্রমজীবী ও জলবায়ুর প্রভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া পাহাড়ের বসতি স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করা কঠিন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। গত তিন দিনে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।
বাদশাঘোনা এলাকায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট উঁচু পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে প্রায় ৬০০ ঘর রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি চক্র পাহাড় দখল করে প্লট বিক্রি করছে। বৃষ্টি থামলেই আবার শুরু হয় পাহাড় কেটে নতুন ঘর নির্মাণ।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সভাপতি করিম উল্লাহ বলেন, নির্বিচারে পাহাড় কাটায় বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। কমে যাচ্ছে পাহাড়ের পানি ধারণক্ষমতা। এতে যেমন পাহাড়ধস বাড়ছে, তেমনি শহরে জলাবদ্ধতাও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১০ সালের পর পাহাড় দখল ও কাটার অভিযোগে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৪০টি মামলা হয়েছে। বন বিভাগও গত এক বছরে ৩০৪টি মামলা করেছে। তবে জনবল ও প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতায় পাহাড় দখল ও নিধন পুরোপুরি বন্ধ করা এখনও সম্ভব হয়নি।
