পে-স্কেল সুপারিশ যাচ্ছে মন্ত্রিসভায়

২৪ঘন্টা অনলাইন : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত হয়েছে। এখন অর্থমন্ত্রীর সম্মতির অপেক্ষা। অনুমোদন মিললেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অর্থ বিভাগকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশ মন্ত্রিসভায় পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের কমিটির এক সদস্য বলেন, আসন্ন বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন সম্ভব না হলে পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠকেই তা তুলতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিচার বিভাগসংক্রান্ত কয়েকটি কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য সর্বশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এসব বিষয় মিটে যাওয়ায় সুপারিশ এখন অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত।
কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি অর্থবছরে কার্যকর হবে মূল বেতন। বিভিন্ন ভাতা দেওয়া শুরু হবে আগামী অর্থবছর থেকে। এ ক্ষেত্রে অষ্টম পে-স্কেলের বাস্তবায়ন পদ্ধতিই অনুসরণ করা হচ্ছে।
সুপারিশে ১ থেকে ১০ গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত এবং ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন গড়ে প্রায় ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে বর্তমান ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা ও ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টও সমন্বয় করা হবে।
যদিও নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে, তবে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট, বিধিমালা ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ফলে বর্ধিত বেতন হাতে পেতে কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল কার্যকর হলেও কর্মচারীরা বাড়তি বেতন পেয়েছিলেন প্রায় পাঁচ মাস পর।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্তমানে সরকারের প্রায় ১৪ লাখ কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়।
নবম পে-স্কেল অনুমোদিত হলে দেশের লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগী সরাসরি এর সুফল পাবেন।
