সিন্ধুর পানি নিয়ে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা

২৪ঘণ্টা অনলাইন: সিন্ধু পানিচুক্তি (ইন্দাস ওয়াটার্স ট্রিটি) ঘিরে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, তাদের প্রাপ্য পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
৩০ জুন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের বিরুদ্ধে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার অভিযোগ তুলে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মুসাদিক মালিক বলেন, সিন্ধু পানিচুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির অধিকার নিশ্চিত করতে দেশটি বদ্ধপরিকর। কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য এই পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের বিপুল জনগোষ্ঠী কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে তা দেশের অর্থনীতি ও জীবিকায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানিচুক্তি এখনও আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে। তার ভাষ্য, এই চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত, বাতিল বা সংশোধন করার সুযোগ নেই এবং আন্তর্জাতিক আইনও পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করে।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের নেতৃত্ব বারবার পানি সম্পদকে দেশের “লাইফলাইন” ও “রেডলাইন” হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।
এদিকে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদমন্ত্রী সি আর পাটিল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ভারত আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে সিন্ধু নদব্যবস্থার পানিতে নিজেদের বরাদ্দ অংশ পুরোপুরি ব্যবহার করতে চায়।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানিচুক্তির আওতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু নদী ও এর উপনদীগুলোর পানিবণ্টন ও ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারিত হয়। কয়েক দশক ধরে এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে পানি ব্যবস্থাপনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে।
