ডিনার এড়িয়ে এক দিনের সফরেই ভারত ছাড়লেন শি জিনপিং

২৪ঘণ্টা অনলাইন: ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিয়ে এক দিনের সফর শেষে চীনে ফিরে গেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রোববার বিকেলে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার পরপরই তিনি বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন।
২০২০ সালের গালওয়ান সীমান্ত সংঘর্ষের পর দীর্ঘ টানাপোড়েনের মধ্যে এটিই ছিল সাত বছরের মধ্যে শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর।
১২ সেপ্টেম্বর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে নয়াদিল্লিতে পৌঁছান চীনা প্রেসিডেন্ট। সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন তিনি। তবে সম্মেলনের প্রথম দিনে মোদির দেওয়া নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন না শি।
নয়াদিল্লিতে শি জিনপিং অবস্থান করেন অভিজাত তাজ প্যালেস হোটেলে। তার নিরাপত্তায় হোটেলটিকে ঘিরে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। হোটেলের ওপর বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয় এবং মোতায়েন করা হয় সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে হোটেলের সব কক্ষও আগেই সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
ভারতের সভাপতিত্বে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এবারের ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব নিয়েও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। এর আগে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হলেও নয়াদিল্লির মূল সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করতে সক্ষম হয়।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যৌথ ছবি তোলার পর মূল অধিবেশনে বক্তব্য দেন শি জিনপিং। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের সংঘাত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ স্বার্থের পক্ষে নয়।
এবারের সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
১১ সদস্যের ব্রিকস জোট বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতি ও জনসংখ্যার বড় একটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। সম্মেলনে বাণিজ্য, বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো, অপ্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে সুইফটের বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
সম্মেলন শেষে রোববার বিকেলে চীনের উদ্দেশে নয়াদিল্লি ছাড়েন শি জিনপিং। আগামী বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব চীনের হাতে যাওয়ার আগে তার এই সফরকে ভারত-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
