গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে বাড়ছে পণ্যের দাম

২৪ঘণ্টা অনলাইন : বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও দেশের জ্বালানি সংকটে চাপে পড়েছে শিল্প খাত। গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে পণ্যের চূড়ান্ত দামে।
গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোডশেডিং ও ভোল্টেজ ওঠানামায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে টেক্সটাইল ও ডাইং কারখানাগুলো কম চাপের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ক্ষতির মুখে পড়ছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। অথচ শ্রমিকের বেতন, কারখানা ভাড়া ও ব্যাংক ঋণের কিস্তির মতো নির্ধারিত ব্যয় ঠিকই বহন করতে হচ্ছে। ফলে প্রতিটি পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, চলমান গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যমান রপ্তানি আদেশ সময়মতো শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না। এতে ভবিষ্যতের রপ্তানি আদেশ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
সংকট মোকাবিলায় জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিকেএমইএ। পাশাপাশি বিল পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা এবং গ্যাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকার বা পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, গণপরিবহন ছাড়া অন্যান্য খাতে সিএনজির পরিবর্তে এলপিজি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এবং গ্যাস সংকটে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তত ছয় মাস খেলাপি ঋণ হিসেবে বিবেচনা না করার দাবি জানানো হয়েছে।
উদ্যোক্তারা ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে উৎপাদন, রপ্তানি ও বিনিয়োগ—তিন ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
