ধ্বংসস্তূপ পাওয়া গেল ৫ বছরের মণীষাকে
নেপালে ৭৮১ জনের দেহ উদ্ধার; নিখোঁজ ২৫০২ জন

২৪ঘণ্টা. টিভি: কাদামাটির স্তূপের নীচে দু’দিন ধরে আটকে ছিল মণীষা। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাকে উদ্ধার করার পরে নিয়ে যাওয়া হয় উদ্ধারকারী দলের শিবিরে। পরে পাঠানো হয় কাঠমান্ডুর হাসপাতালে।
ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে মৃদু আওয়াজ ভেসে আসছিল। উদ্ধারকারীরা প্রথমে ভেবেছিলেন বিড়াল ডাকছে। সেই ভেবে কাদামাটির স্তূপ এবং ধ্বংসাবশেষ সরাতে শুরু করেন তাঁরা। তাতেই খোঁজ মেলে পাঁচ বছরের মণীষার। কাদামাটির স্তূপের নীচে দু’দিন ধরে আটকে থাকা মণীষাকে গত শুক্রবার উদ্ধার করা হয়।
রাসুয়ার স্যাপ্রুবেসী থেকে উদ্ধার করার পর ওই শিশুকে পাঠানো হয় কাঠমান্ডুর হাসপাতালে। আপাতত সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। দেখা হয়েছে বাবা-মায়ের সঙ্গেও। বিপর্যয় পরবর্তী উদ্ধারকাজের সময়ে ওই দম্পতিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ওই হাসপাতালেই।
নেপাল পুলিশের আধিকরিক সঞ্জু খাতরি জানান, উদ্ধারকারী দল স্যাব্রুবেসীর কাছে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়াদের সন্ধান চালাচ্ছিল। কোথাও কেউ জীবিত রয়েছেন কি না, সেই খোঁজ চলছিল। তখনই ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পায় তারা। উদ্ধারকারী দল প্রথমে মনে করেছিল কোনও বিড়াল ডাকছে। সেইমতো তারা ওই জায়গা থেকে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করে। তখনই দেখা যায় কাদামাটির নীচে আটকা পড়ে রয়েছে মণীষা। প্রায় দু’ঘণ্টার চেষ্টায় তাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনে উদ্ধারকারী দল। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মণীষাকে যখন উদ্ধার করা হয় তখন তার কোনও হুঁশ ছিল না।
উদ্ধারকারী দল তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে চাইছিল। হেলিকপ্টারও ডাকা হয়। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে তাকে আকাশপথে কাঠমান্ডু নিয়ে যাওয়া যায়নি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মণীষাকে নিয়ে যাওয়া হয় উদ্ধারকারী দলের শিবিরে। সেখানে তার চোখেমুখে জল দেওয়া হয়। তাতে কিছু ক্ষণ পরে জ্ঞান ফেরে ওই শিশুর। শেষে শনিবার বিকেলে তাকে কাঠমান্ডুর টিচিং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আপাতত সেখানেই শিশুবিভাগে ভর্তি রাখা হয়েছে তাকে।
রবিবার বিকেল পর্যন্ত নেপালের বিপর্যস্ত এলাকাগুলি থেকে মোট ৭৮১ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ ২৫০২ জন। বিপর্যয়ের পর থেকে বহু ভারতীয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানাচ্ছে, এ দিন বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ১৪৯ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা গিয়েছে।
