বাগেরহাটের দিঘি থেকে কক্সবাজারের সাফারি পার্কে ধলাপাহাড়

ম.ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট: বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘি থেকে উদ্ধার করা আলোচিত কুমির ধলাপাহাড় এখন কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে। দীর্ঘদিন খাবার না খাওয়ার পর নতুন পরিবেশে এসে খাবার গ্রহণ করেছে কুমিরটি।
গত ১২ আগস্ট বন অধিদপ্তরের বিশেষ অনুমোদনে ধলাপাহাড়কে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে নেওয়া হয়। এর আগে গত ৩ জুন মাজারের দিঘি থেকে কুমিরটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ধলাপাহাড়ের বয়স প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বছর। এর দৈর্ঘ্য সাত থেকে আট ফুট। ওজন আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি। উদ্ধার করার পর প্রায় দুই মাস নয় দিন কুমিরটি কোনো খাবার গ্রহণ করেনি।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, কুমির শীতল রক্তের প্রাণী। তাই দীর্ঘ সময় খাবার ছাড়াও এটি টিকে থাকতে পারে। ধলাপাহাড় শারীরিকভাবে সুস্থ ছিল বলেও জানান তিনি।
ধলাপাহাড়কে স্থানান্তরের পেছনে জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গত ১ জুন মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নামা আট বছরের এক শিশুকে কুমিরটি আক্রমণ করে হত্যা করে বলে জানা গেছে। এর আগে একটি কুকুরকেও আক্রমণ করে মেরে ফেলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কুমিরটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বন বিভাগ।
খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় কুমিরটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুলকারনাইন জানান, কুমিরটির শারীরিক অবস্থায় বড় কোনো সমস্যা দেখা যায়নি।
কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে পৌঁছানোর পর ধলাপাহাড়কে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সেখানে নতুন পরিবেশে আসার পরের দিনই কুমিরটি একটি জীবিত মুরগি খায়।
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল আলম জানান, পার্কের নিয়ম অনুযায়ী কুমিরকে সপ্তাহে একদিন খাবার দেওয়া হয়। নতুন পরিবেশে ধলাপাহাড়ের খাবার গ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা কুমিরগুলোর মধ্যে ধলাপাহাড়ই বর্তমানে একমাত্র জীবিত সদস্য। তাই কুমিরটির ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
মাজারের দিঘি থেকে ধলাপাহাড়কে সরিয়ে নেওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে। বর্তমানে কক্সবাজারের সাফারি পার্কে কুমিরটির আচরণ ও শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ।
