আধুনিক চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের

২৪ঘণ্টা অনলাইন : লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। অতিবৃষ্টি ও তীব্র রোদের মতো প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফসল রক্ষায় মালচিং পেপার, জৈব সার, মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা এবং পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন তারা। পাশাপাশি লতাজাতীয় সবজির জন্য নেট ও কটন সুতার মাচাও তৈরি করছেন কৃষকেরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে সেচ, সার প্রয়োগ ও কীটনাশক ব্যবহারে সুবিধা হচ্ছে। একই সঙ্গে জমিতে অতিরিক্ত সার প্রয়োগের প্রয়োজন কমছে এবং ফসলের উৎপাদনও বাড়ছে। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি লোকসানের ঝুঁকিও কমছে।
আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী এলাকার কৃষক বলেন, অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত রোদের কারণে প্রচলিত পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া যায় না। তবে মালচিং পেপার ব্যবহার করলে ফসল প্রতিকূল আবহাওয়ার ক্ষতি থেকে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকে। পাশাপাশি সেচ দেওয়া সহজ হওয়ায় ফলনও ভালো হয়।
দারোগার বাজার এলাকার কৃষক দীন ইসলাম জানান, মালচিং পেপার ব্যবহার করে সবজি চাষে উৎপাদন খরচ কমছে এবং ফলনও ভালো হচ্ছে। কৃষি বিভাগ যদি বাজারে মানসম্মত বীজ ও কীটনাশকের সরবরাহ নিশ্চিত করে, তাহলে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করে আরও বেশি কৃষক লাভবান হতে পারবেন।
আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের কৃষি উদ্যোক্তা বলেন, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় মালচিং পেপার ব্যবহার করে চাষাবাদ করা সহজ। এতে শ্রমিক খরচসহ বিভিন্ন ব্যয় কমে আসে। অতিরিক্ত রোদ-বৃষ্টিতেও ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে।
লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাইখুল আরেফিন বলেন, কৃষিতে মালচিং পদ্ধতির ব্যবহার ইতিবাচক। এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে রোগবালাই কম হয়, জমিতে প্রয়োগ করা সার অপচয় কমে এবং ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
কৃষকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে লালমনিরহাটে সবজি চাষ আরও লাভজনক ও টেকসই হয়ে উঠতে পারে।
