রজনীকান্তের জন্যই নিয়ম ভাঙলেন বিজয়

২৪ঘণ্টা অনলাইন : দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় সেতুপতি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আর কোনো চলচ্চিত্রে অতিথি চরিত্র বা ক্যামিওতে অভিনয় করবেন না। তবে এই সিদ্ধান্তে একমাত্র ব্যতিক্রম করেছেন সুপারস্টার রজনীকান্তের আসন্ন সিনেমা ‘জেইলার ২’।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিজয় সেতুপতি বলেন, তিনি এখন থেকে ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় বন্ধ করে দিয়েছেন। শুধু ‘জেইলার ২’-এ সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি দিয়েছেন, আর তার একমাত্র কারণ রজনীকান্তের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া।
তার ভাষায়, “আমি ‘জেইলার ২’-এ ক্যামিও করেছি শুধু রজনী স্যারের কাছাকাছি থাকার জন্য। তার সঙ্গে কাজ করলে প্রতিদিনই নতুন কিছু শেখার সুযোগ মেলে।”
ক্যামিও না করার সিদ্ধান্তের কারণও ব্যাখ্যা করেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, অন্যের ছবিতে বারবার ছোট চরিত্রে উপস্থিত হলে তা তার নিজের চলচ্চিত্রের ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভবিষ্যতে এমন প্রস্তাব গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে রজনীকান্তের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিজয় সেতুপতির মতে, প্রায় পাঁচ দশক ধরে শীর্ষস্থান ধরে রাখা এই কিংবদন্তি অভিনেতার সঙ্গে কাজ করাই তার জন্য বড় প্রাপ্তি। তিনি বলেন, “এই ইন্ডাস্ট্রিতে এত বছর একজন সুপারস্টার কীভাবে নিজেকে ধরে রাখেন, তা রজনী স্যারের কাছ থেকেই শেখা যায়।”
যদিও তিনি ‘নো-ক্যামিও’ নীতি গ্রহণ করেছেন, তবুও ভালো চিত্রনাট্য হলে সিদ্ধান্তে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার ভাষায়, “সবকিছুই স্ক্রিপ্টের ওপর নির্ভর করে। চরিত্রটি যদি সত্যিই গল্পের জন্য জরুরি হয় এবং আমার সঙ্গে মানিয়ে যায়, তাহলে অবশ্যই বিবেচনা করব।”
সাম্প্রতিক সময়ে খল চরিত্রে অভিনয়ের প্রসঙ্গেও কথা বলেন বিজয় সেতুপতি। তিনি জানান, অধিকাংশ প্রস্তাবই প্রচলিত ধাঁচের, যেখানে গল্পের চেয়ে নায়ককে বড় করে দেখানোর চেষ্টা থাকে। তাই এখন থেকে কেবল শক্তিশালী ও অর্থবহ চরিত্রেই অভিনয় করতে চান তিনি।
নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত ‘জেইলার ২’ আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ছবিতে আবারও ‘মুথুভেল পান্ডিয়ান’ চরিত্রে ফিরছেন রজনীকান্ত। এতে আরও অভিনয় করেছেন এস. জে. সুরিয়া, রাম্যা কৃষ্ণন, বিদ্যা বালান, মিথুন চক্রবর্তী ও যোগী বাবু। বিশেষ ক্যামিও চরিত্রে থাকছেন মোহনলাল, শিব রাজকুমার এবং বিজয় সেতুপতি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জেইলার’ বিশ্বব্যাপী ৬০০ কোটির বেশি রুপি আয় করে বছরের অন্যতম সফল তামিল চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছিল।
