কোরিয়ায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা

২৪ঘণ্টা অনলাইন : দক্ষিণ কোরিয়ায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। তীব্র দাবদাহে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইয়াংসান শহরে রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে তাপমাত্রা ওঠে ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
দেশটির সরকারি আবহাওয়া সংস্থা কোরিয়া মেটিওরোলজিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (কেএমএ) জানিয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ইয়াংসান। সেখানে টানা পঞ্চম দিনের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে অবস্থান করেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলে তাপদাহের সতর্কতা জারি রয়েছে এবং বেশির ভাগ শহরেই তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় চলতি বছর চালু হওয়া ‘জরুরি তাপদাহ সতর্কতা’ ব্যবস্থার আওতায় রোববার দেশটির ২০টিরও বেশি এলাকা ছিল। কোনো অঞ্চলে অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকলে এই সতর্কতা জারি করা হয়।
কেএমএর তথ্য বলছে, ১৯৭০-এর দশকে দক্ষিণ কোরিয়ায় বছরে গড়ে আট দিন তাপদাহ দেখা গেলেও গত পাঁচ বছরে তা বেড়ে ১৯ দিনে পৌঁছেছে। দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে সেটিকে ‘তাপদাহের দিন’ এবং রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকলে ‘ট্রপিক্যাল নাইট’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবদাহসহ চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।
এদিকে প্রতিবেশী জাপানেও তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত। দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় হিট স্ট্রোক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজধানী টোকিওর উত্তরের কুমাগায়া ও মধ্যাঞ্চলের নাগয়ায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ‘কোকুশোবি’ বা ভয়াবহ গরমের দিন ঘোষণা করা হয়েছে।
জাপানের কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের পর্যাপ্ত পানি পান, প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া এবং এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর দেশটিতে সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
