বিশ্ব শরণার্থী দিবসে জাতিসংঘের বার্তা

২৪ঘণ্টা অনলাইন ডেস্ক : বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ শরণার্থীর নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে নতুন করে অঙ্গীকার করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ।
বিশ্ব শরণার্থী দিবস প্রতি বছর ২০ জুন জাতিসংঘ কর্তৃক পালিত একটি আন্তর্জাতিক দিবস। এটি বিশ্বজুড়ে শরণার্থীদের সম্মান জানানো এবং তাদের অমানবিক পরিস্থিতির প্রতি আন্তর্জাতিক সচেতনতা বাড়ানোর জন্য পালন করা হয়। ২০০১ সালের ২০ জুন প্রথম এই দিবসটি পালিত হয়। এটি ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের ৫০তম বার্ষিকীর স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।২০ জুন শুক্রবার বিশ্ব শরণার্থী দিবসকে সামনে রেখে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুদ্ধ, সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর সমাজ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তারা শ্রমিক, শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, শিল্পী, ক্রীড়াবিদ এবং নেতা হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন।
বারহাম সালিহ বলেন, নিরাপত্তার খোঁজে নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি। তবে শরণার্থী হওয়া একজন মানুষের পরিচয়ের একমাত্র অংশ হতে পারে না। তারা ঘরবাড়ি হারালেও আশা হারাতে পারেন না। বর্তমানে বিশ্বের লাখো শরণার্থী মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল অবস্থায় আটকে আছেন। তহবিল কমে যাওয়ায় তাদের জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। জরুরি সহায়তা জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রধান বলেন, অনেক শরণার্থীর জন্য সাময়িক সংকট বছরের পর বছর, এমনকি কয়েক দশকের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করা জরুরি। শরণার্থীদের শুধু নিরাপত্তা নয়, মর্যাদার সঙ্গে নতুন জীবন গড়ার সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।
এ লক্ষ্যেই আগামী ১০ বছরের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুত ও মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল শরণার্থীর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তার মতে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, যেখানে বিশ্বের অধিকাংশ শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে লাখো মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
বিবৃতিতে বারহাম সালিহ স্মরণ করিয়ে দেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে যুদ্ধ, সংঘাত বা নির্যাতনের কারণে পালিয়ে যাওয়া মানুষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখবে।
বিশ্ব শরণার্থী দিবসে তিনি বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি শুধু সংহতির বার্তা নয়, বরং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময়। কারণ নিরাপত্তা খোঁজার অধিকার মানবাধিকারের মৌলিক অংশ এবং তা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। বিশ্বের প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ শরণার্থীর জন্য এই অধিকারই ভয় ও নিরাপত্তা, হতাশা ও আশা, এমনকি জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
তিনি বিশ্ব শরণার্থী দিবসে শরণার্থীদের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত এবং ৭৫ বছর আগে দেওয়া সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
