বিশ্বজুড়ে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা : জাতিসংঘ

২৪ঘণ্টা অনলাইন : বিশ্বের ১৩টি সংকটাপন্ন দেশে আগামী কয়েক মাসে তীব্র খাদ্য সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের দুটি খাদ্য সংস্থা। সংঘাত, তহবিল সংকট এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে লাখো মানুষ দুর্ভিক্ষের আরও কাছাকাছি চলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জুন ২০২৬ প্রকাশিত এক যৌথ প্রতিবেদনে এ সতর্কতা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের জুন থেকে নভেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।
ডব্লিউএফপির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ বলেন, “এই প্রতিবেদনের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী মাসগুলোতে আরও কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধার শিকার হবে এবং অনেকেই দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইয়েমেন ও গাজা উপত্যকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নতুন করে নাইজেরিয়া ও সোমালিয়াকেও উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তান, কঙ্গো, মিয়ানমার, হাইতি, মালি, লেবানন ও মাদাগাস্কারও খাদ্য সংকটের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এফএও ও ডব্লিউএফপির মতে, সংঘাত ও সহিংসতাই অধিকাংশ দেশে খাদ্য সংকটের প্রধান কারণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে যাওয়া এবং এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাব। এতে খরা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব এবং কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলা সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এতে বাজার ব্যবস্থা, মানুষের জীবিকা এবং ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ২০২২ সালের পর থেকে খাদ্য সহায়তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির অর্থায়ন প্রায় ৫৯ শতাংশ কমে গেছে। অথচ সংকটাপন্ন মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
তবে এরই মধ্যে কিছু ইতিবাচক খবরও এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএফপিকে ৮০ কোটি ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এই অর্থের মাধ্যমে অন্তত ৩৭টি দেশের ৩ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।
তবুও ২০২৬ সালের জন্য ডব্লিউএফপির ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থের চাহিদার বড় অংশ এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর গাজায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সংকট এখনও গভীর। চলতি বছরের শুরুতে সেখানে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ছিল, যা বিশ্লেষণ করা জনসংখ্যার প্রায় ৭৭ শতাংশ।
ইয়েমেনকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ খাদ্য সংকটপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটিতে জরুরি ও বিপর্যয়কর পর্যায়ের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
এছাড়া নাইজেরিয়ার বোরনো অঙ্গরাজ্য, সোমালিয়ার বুরহাকাবা জেলা, দক্ষিণ সুদানের জংলাই ও আপার নাইল অঞ্চল এবং সুদানের উত্তর দারফুর, দক্ষিণ দারফুর ও দক্ষিণ করদোফান অঞ্চলে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে সতর্ক করা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে এফএও ও ডব্লিউএফপি। সংস্থাগুলোর মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী মাসগুলোতে আরও লাখো মানুষ ভয়াবহ ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হবে।
