বাবা দিবসের প্রতিপাদ্য: জনক থেকে জনকত্বে

২৪ঘন্টা অনলাইন : বাবা শব্দের প্রায় সমার্থক শব্দ জনক। দিবসের সাথে বিষয়টির সরাসরি যোগ থাকায়, আলাপ দিবসের উদযাপনের দিকে না গিয়ে বরং বাবা বা জনকের ধারণা নিয়েই এগিয়ে যাওয়া যাক।
বাবা শব্দটি জৈবিকতার নিগূঢ় থেকে উৎসারিত হলেও কালে কালে জাতি, গোত্র, ধর্ম, মতাদর্শ, সংস্কৃতি বা আরও অনেক বিষয়ের প্রথম উদ্গাতা বা অনুসারীরা জৈবিক সম্পর্কের সীমা পেরিয়েও বহু পুরুষকে "বাবা" সম্বোধন করেছেন।
শুধু জৈবিক জনকের ভূমিকাতেই কি বাবা হওয়া যায়? জীবজগতের প্রায় সকল প্রাণীর মধ্যেই একটা নির্দিষ্ট বয়ঃসীমা পর্যন্ত সন্তানের নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা ও দায়িত্ব নিতে দেখা যায়। জন্মের পর শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জীবের সাধারণ জৈব প্রবৃত্তি এই আচরণে মানুষকে আলাদাভাবে মহান করে দেখার কিছু নেই। অপরাপর জীবের মতোই মানুষ এখানে স্বভাবজাত নিয়মেই আচরণ করে।
মানুষের সাথে অপরাপর জীবের পার্থক্য তৈরি হয় ঠিক এর পরের জায়গায়। মানুষ জৈবিকতার গণ্ডি পেরিয়েও কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সমাজ, রাষ্ট্র বা ধর্মের পিতা বা জনক হয়ে উঠতে পারে। আধুনিক মানুষ হিসেবে উদযাপনের ঠিকুজি এখানেই হওয়া উচিত বলে মনে করি। জৈবিক সম্পর্কের মাত্রা পেরিয়েই মানুষ সামষ্টিক হয়ে ওঠে, আর এই সামষ্টিকতার বোধের মধ্যেই নিহিত আছে মানুষের বিশেষত্ব যা পৃথিবীতে এক প্রকার উদযাপনযোগ্য বিষয়ই বটে।
তবে এই সামষ্টিক জনকত্বের ধারণাকে একপাশে রেখে যদি দিবসকেন্দ্রিক ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিকে তাকাই, তাহলে একটা প্রশ্ন এসেই যায়। দিবসের ঘুলঘুলি দিয়ে মানবিক সম্পর্কের আবদারগুলো এখন বহুধাবিভক্ত । বছরের মধ্যে ব্যক্তি একে একে অনেক সম্পর্কজাত দিবস উদযাপনের সুযোগ পায়। এসব দিবস প্রকৃত অর্থে আজকের সময়ে মানবিক সভ্যতার ঠিক কতখানি কাছাকাছি, তা খতিয়ে দেখার সময় বোধহয় এসেছে।
