রাজধানীতে নকল ওষুধ চক্রের বিস্তার

২৪ঘন্টা অনলাইন: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ও ভেজাল ওষুধ জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কেরানীগঞ্জ ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন অলিগলিতে এসব ওষুধ তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিটফোর্ড ওষুধ মার্কেটের একাধিক অসাধু ব্যবসায়ী এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জীবনরক্ষাকারী বিভিন্ন ওষুধ—ডায়াবেটিস, অ্যান্টিবায়োটিক, প্যারাসিটামল সিরাপ, ইনজেকশনসহ নানা ধরনের ওষুধ নকল করে বাজারজাত করা হচ্ছে। এসব ওষুধ সেবনে রোগীদের অবস্থার অবনতি এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি র্যাব রাজধানীর উত্তরা, গুলশান, নয়াবাজার, শ্যামপুর, কদমতলী ও কেরানীগঞ্জের আটিবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ ও উৎপাদন সরঞ্জাম উদ্ধার করে ধ্বংস করেছে। অভিযানে জড়িতদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও কারাদণ্ডও দেওয়া হয়।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এ জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, এককভাবে এই অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়, এজন্য সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অন্যদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুরান ঢাকার মিটফোর্ড, বাবুবাজার ও ইসলামপুর এলাকায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে নকল ওষুধ উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে জড়িত। এসব ওষুধ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, নকল ওষুধ সেবনে কিডনি বিকলসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বেশি। তারা ওষুধ বিক্রি ও বিতরণে কঠোর নজরদারি এবং ফার্মাসিস্ট ছাড়া বিক্রি বন্ধের ওপর জোর দেন।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অভিযান অব্যাহত থাকলেও জনবল সংকট ও সীমিত সক্ষমতার কারণে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এ খাতে নজরদারি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।
