ইসলাম বনাম লা-মাজহাব

ইসলাম অনুসরণ করার জন্যে রাসূল [স.] এর আদর্শকে যে বিজ্ঞান তুলে ধরে তাই ইলমুল ফিকাহ। এটি এমনই একটি শাস্ত্র যা মুসলমানদেরকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জাতিতে রূপান্তরিত করেছিল। ইলমুল ফিকাহ-এর যুগকে বলা হয় ইসলামের স্বর্ণযুগ। বৃটিশ ও ইসরাইলিরা সম্মেলিত প্রচেষ্টায় ঠিক এর বিপরীত একটি শাস্ত্র দাঁড় করায় যার নাম দেয়া হয় লা-মাজহাব। যার সারমর্ম- ইলমুল ফিকাহ-এর প্রয়োজন নেই। এরা পৃথিবীতে আগমনের পরেই কোটি কোটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় ইলমুল ফিকাহ শাস্ত্রের প্রতি। মুসলমানদের মধ্যে অজ্ঞ ও মুনাফেকরা এদের প্রশ্নে মোহিত হয় আর দলে দলে ইলমুল ফিকাহ চর্চা করা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তখন থেকেই ধীরে ধীরে ইসলামের স্বর্ণযুগ পরিনত হয়ে যায় ইসলামের অন্ধকার যুগে।
এখন প্রশ্ন হলো— কেন মুসলমানগণ দলে দলে লা-মাজহাব এ মোহিত হলো? এর উত্তর হলো; পাঁচটি কারণে মুসলমানরা লা-মাজহাব এ মোহিত হয়।
১. আরব নেতাদের মুনাফেকি : লা-মাজহাবিরা পাশ্চাত্যের শক্তি প্রয়োগ করে আরব আমিরাত ও সংযুক্ত সৌদি আরবকে এদের এম্বাসেডর বানায়, ফলত এদের সাথে মুসলমানদের উঠাবসায় এই অধর্ম মুসলমানদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
২. নতুনত্বের আগ্রহ : ফিলোসফিক্যাল দৃষ্টিতে প্রতিটি মানুষই নতুনত্বের প্রতি আগ্রহী। তাই রাসূল, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন, তাবে তাবেয়িন, আইম্মায়ে মুজতাহিদিন, খুলাফায়ে রাশেদিনের উপর যখন কেউ আঙ্গুল তুলে প্রশ্ন করতে শুরু করে তখন ওই সমস্ত চক্রান্তকারীদের প্রতি মোহিত হয়ে পড়ে একদল অজ্ঞ ও মুনাফিক মুসলিম।
৩. উচ্চাভিলাস : ইলমুল ফিকাহ মুসলমানদের এতো উচ্চতায় নিয়ে যায় যে- অমুসলিমরা মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিতে, মুসলিম কালচার অনুযায়ী চলতে, মুসলিমদের সাথে উঠাবসা করতে নিজেদের ধর্ম থেকেও বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত। তখন মুসলিমরা ছিল পৃথিবীর আইডল। ফলত মুসলিমরা হয়ে পড়ে উচ্চাভিলাসী, উদাসীন। ফিলোসফিক্যাল দৃষ্টিতে মানুষ যতবেশি সচ্ছলতায় পৌঁছে ততবেশি অকর্মা, অলস হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে অমনোযোগী হয়ে পড়ে ইলমুল ফিকাহ-এর ওপর। এই সুযোগে পৃথিবীতে আগমন ঘটে লা-মাজহাব এর।
৪. একদিনের মাওলানা : লা-মাজহাব যারা চর্চা করে ওদের কানে এমন কুমন্ত্রনা দেয়া হয় ওরা একদিনেই হয়ে যায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাওলানা। দুই-চারটা চটি বই পড়েই বলতে থাকে এটা কুরআন হাদীসে নেই, ওটা কুরআন হাদীসে নেই, কুরআন হাদীস ছাড়া আর কিছু মানি না।
৫. বিশাল সম্ভার : ইলমুল ফিকাহ ১৫টা জ্ঞান অর্থাৎ-
ইলমুল লুগাহ- ভাষা বিজ্ঞান।
ইলমুত তেলাওয়াত- কোরআন শরীফ পাঠ শিল্প।
ইলমুল কুরআন- কোরআন মুখস্থ ও অর্থ জ্ঞান।
ইলমুল হাদিস- হাদীস মুখস্থ ও অর্থ জ্ঞান।
ইলমুত তারিখ- ইতিহাস বিজ্ঞান।
ইলমুত তাসাউফ- কুরআন হাদীসের আত্মশুদ্ধি জ্ঞান।
ইলমুশ শারিয়াহ- ইসলামী আইন শাস্ত্র।
ইলতুত তরিকাত- রাসূল স. হতে এই পর্যন্ত ধারাবাহিকতার জ্ঞান।
ইলমুল হাকিকত- চিকিৎসা, অর্থনীতি, রাজনীতি, প্রকৌশল বিজ্ঞান।
ইলমুল মারেফাত- তকদির, জীন, ফেরেশতা, কবর, হাশর, মিজান, পুলসিরাত, জান্নাত, জাহান্নামের বিজ্ঞান।
উসুলুল হাদীস- হাদীস শাস্ত্রের বিজ্ঞান।
উসুলুত তাফসির- কোরআন শাস্ত্রের বিজ্ঞান
উসুলুল ফিকহ- আইন শাস্ত্রের বিজ্ঞান।
মানতেক- কথার শিল্প বিজ্ঞান।
আকাইদ- আল্লাহ ও রাসূল [স.] সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
এই বিশাল সম্ভার যা একজন ইলমুল ফিকাহ অধ্যায়নকারী একশত বছর চর্চা করলেও কোনো একটি বিষয়ে পরিপূর্ণ হতে পারে না। ফলত সে হুটহাট ফতুয়া বা কোরআন হাদিসে নেই বলতে পারে না। অথচ লা-মাজহাবিরা চটি বই পড়ে, ইউটিউব, ফেসবুক দেখে ফতুয়া দিয়ে দেয়- এটা কুরআন হাদীসে নেই, ওইটা কুরআন হাদীসে নেই, কুরআন হাদীস ছাড়া আর কিছু মানি না। আল্লাহ মুসলমানদেরকে লা-মাজহাবি পাশ্চাত্য চক্রান্ত হতে উদ্ধার করুন। আমিন।
