সৌভাগ্যের অতি সন্নিকটে আমরা

লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হলো পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলো অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ তম রোজার মধ্যে যেকোনো একটি রজনীই হল লাইলাতুল কদর। যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। কুরআনের ভাষায় একে ভাগ্য রজনী বলা হয়েছে। এই রাতে কুরআন নাজিল হয়েছিল এবং এর ইবাদতে পূর্ববর্তী পাপ মাফ হয়। এই রাতে ফেরেশতাদের সরদার জীব্রিল আমিন সহ অসংখ্য ফেরেশতারা অবতীর্ণ হন। এই রাতটি ২৭তম রমজান হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
•লাইলাতুল কদরের বিশেষত্ব ও আমল:
ফজিলত: এই এক রাতের ইবাদত হাজার মাস অর্থাৎ ৮৩ বছর ৪ মাস ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াবপূর্ণ।
কুরআন নাজিল: এই রাতেই পবিত্র কুরআন নাজিল শুরু হয়, যা এই রাতকে মহিমান্বিত করেছে।
সন্ধান: রাসূল সা. রমজানের শেষ ১০ দিন, বিশেষ করে বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ করতে বলেছেন।
আমল: সারারাত জেগে নফল নামাজ, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার এবং দোয়ার মাধ্যমে এই রাত অতিবাহিত করা সুন্নাহ।
বিশেষ দোয়া: হযরত আয়েশা রা. কে রাসূল সা. এই রাতটি পেলে বেশি বেশি পড়তে বলেছেন:
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউসুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা'ফু আন্নী
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে পছন্দ করেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।
আলামত: এই রাতটি খুব শান্ত ও নাতিশীতোষ্ণ হয় যা অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা নয়। পরদিন সকালে সূর্যকিরণবিহীন শান্ত আলো ছড়িয়ে উদিত হয়।
লাইলাতুল কদর সৌভাগ্য ও ক্ষমার রজনী, তাই মুমিন মুসলমানেরা এই রাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে লাইলাতুল কদরের পরিপূর্ণ আমল করে সফলতা অর্জন করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
