সঞ্জুর ব্যাটেই বিশ্বকাপের সেমিতে টিম ইন্ডিয়া

| ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ১৯৫/৪ (রস্টন চেজ ৪০, হোল্ডার ৩৭, বুমরাহ ৩৬/২) ভারত : ১৯৯/৫ (সঞ্জু ৯৭*, তিলক ২৭, হোল্ডার ৩৮/২) ফল : ৫ উইকেটে জয়ী ভারত |
২৪ঘণ্টা অনলাইন : ঝড় কেটে গিয়েছে, বিশ্বকাপে সূর্যোদয় টিম ইন্ডিয়া। সূর্যকুমার যাদবদের সেমিফাইনালে যাওয়া নিয়ে যে কালো মেঘ তৈরি হয়েছিল, তা উড়ে গেছে। সেই ইডেন, যেখানে দশবছর আগে বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ভারতের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতেই সেদিন লড়াই থেমেছিল বিরাট কোহলি-মহেন্দ্র সিং ধোনিদের। হুঙ্কার দিয়েছিলেন ক্যারিবিয়ানদের কোচ ড্যারেন সামি। কিন্তু সঞ্জুর ব্যাটে বিদ্ধ হলেন তাঁরা। সঞ্জু ৫ উইকেটে জিতিয়ে সেমিফাইনালে তুললেন ভারতকে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সুপার এইটের একটা হারে পাহাড়প্রমাণ চাপে পড়ে গিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। সেই চাপ কিছুটা কাটে জিম্বাবোয়েকে হারিয়ে। ফলে ইডেনেই ছিল ভারতের অগ্নিপরীক্ষা। কোয়ার্টারে যে দল জিতবে, তারা যাবে সেমিফাইনালে। সেই যুদ্ধে টসভাগ্য সহায় হয় সূর্যকুমার যাদবের। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান ভারত অধিনায়ক। ইডেনের পিচে প্রচুর রান ওঠে। জশপ্রীত বুমরাহ যদিও একদিক থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে রেখেছিলেন। কিন্তু তাকে হতাশ করল ভারতের ফিল্ডিং। বরুণ চক্রবর্তী রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া করলেন। রস্টন চেজের সহজ ক্যাচ ফেললেন অভিষেক শর্মা। পরে আরও একটি ক্যাচ মিসেও অবদান তার। অন্যদিকে রান বিলোলেন অর্শদীপ সিং, হার্দিক পাণ্ডিয়ারা। শুরুতে শাই হোপ, রস্টন চেজরা যেভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় রানের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সেটাই শেষে পূরণ করলেন রভম্যান পাওয়েল, জেসন হোল্ডাররা। বুমরাহর ২ উইকেট সত্ত্বেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস থামে ১৯৫ রানে।
ইডেনের পিচে এই রানটা তাড়া করা হয়তো অসাধ্য নয়। কিন্তু বিশ্বকাপের চাপও তো একটা ব্যাপার। চাপ! কীসের চাপ? সঞ্জু স্যামসন বোধহয় সেই শব্দটা শুনে ইডেনে নামেননি। ডাগআউটে বসে বসে হয়তো মনের মধ্যে একটা প্রতিজ্ঞা করে ফেলেছিলেন। অগ্নিপরীক্ষায় নিজেকে প্রমাণ করে বঞ্চনার জবাব দেব! ক্যারিবিয়ানদের দুর্ভাগ্য ও ভারতের সৌভাগ্য যে এই ম্যাচটায় তিনি সঞ্জু থেকে ‘সুপার’ সঞ্জু হয়ে উঠলেন। অন্যদিকে কে আছে, না আছে সেসব নিয়ে আর ভাবেননি। অভিষেক শর্মা ‘মিডাস টাচ’টা হারিয়েছেন। আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ধরে খেলা শুরু করেও লাভ হল না। ভারতের ২৯ রানের মাথায় আকিল হোসেনের বলে ক্যাচ তুলে ফিরলেন। ঈশান কিষান (১০) ও সূর্যকুমার যাদবও (১৮) রান পেলেন না। তবে সঞ্জুর জন্য প্রয়োজনীয় রান রেট খুব বেশি বাড়তে পারেনি।
ক্লাস-টাইমিংয়ে যে টি-টোয়েন্টি শাসন করা যায়, তা ফের বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন সঞ্জু। কারও স্মৃতিতে ফিরতেই পারে ‘চেজমাস্টার’ বিরাট কোহলির কথা। তাছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয়দের মধ্যে কোহলিকে টপকে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও ভাঙলেন সঞ্জু।
তবু মাঝের দিকে ভারতের উপর যে চাপটা তৈরি হচ্ছিল, সেটা থেকে মুক্তি দিলেন তিলক। নতুন পজিশনে খেললেও ১৫ বলে ২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে যান। হার্দিক চাপের মুখে ভুল করলেন। একবার জীবন পেয়েও ম্যাচ শেষ করে আসতে পারলেন না। আর তাই হয়তো সঞ্জুর জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। খুব জোরে মারার চেষ্টা করেন না। কিন্তু ক্লাস-টাইমিংয়ে যে টি-টোয়েন্টি শাসন করা যায়, তা ফের বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন সঞ্জু। কারও স্মৃতিতে ফিরতেই পারে ‘চেজমাস্টার’ বিরাট কোহলির কথা। তাছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রান তাড়া করার ক্ষেত্রে ভারতীয়দের মধ্যে কোহলিকে টপকে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও ভাঙলেন সঞ্জু। করে গেলেন ৯৭ রান। সেঞ্চুরি হয়নি, কিন্তু কিছু ইনিংস সেঞ্চুরির থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের পর গোটা ইডেন ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’ জানাল। এরপরের লড়াই ওয়াংখেড়েতে। বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে মাঠে নামবে টিম ইন্ডিয়া। ভুলভ্রান্তি আছে। ফিল্ডিং নিয়ে ভাবতে হবে গৌতম গম্ভীরকে। কিন্তু সঞ্জুর লড়াকু মানসিকতাই হয়তো ফের শিরোপা এনে দিতে পারে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
