দুঃখ পেরেশানি সম্পর্কে কি বলছে কোরআনে

রাজা-বাদশাহী আমলে যুদ্ধে যাওয়া আগে প্রতিপক্ষকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে একটি ঘোষণাপত্র পাঠাত। অর্থাৎ প্রস্তুতি নিয়েই যুদ্ধ হতো। আমরা হুট-হাট দুঃখ-পেরেশানির মধ্যে পড়ে যাই। পার্থক্য হলো তার কোনো কারণ বা ঘোষণাপত্র আগে-ভাগে জানা থাকে না। আমরা অনেক সময় বলি আল্লাহ আমাদের কেনো আমাদের এই দুঃখ-পেরেশানিতে ফেললেন? আল্লাহ কি আসলেই বিনা নোটিশে আমাদেরকে দুঃখ-পেরেশানির মধ্যে ফেলেন? আসুন আমরা জেনে নিই আল্লাহ এ বিষয়ে কি বলেন।
আল্লাহ বাকারা আয়াতের ৬-এ বলেন : ‘যারা কাফের, যাদের জন্য উভয়ই সমান যে- আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন আর নাই করুন, তারা বিশ্বাস করবে না।’ আল্লাহ এই আয়াতে ৫টি নিদর্শন উল্লেখ করেন;
এক. যারা কাফের। যারা অস্বিকারী, অমান্যকারি, পৃষ্ঠপ্রদর্শক। আপনি যা অস্বীকার করেছেন তা যদি কল্যাণকর হয়, আপনি যা অমান্য করছেন তা যদি মানা জরুরী হয়, আপনি যা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করছেন তা যদি আলিঙ্গন করা জরুরী হয় তাহলে আপনি সগৌরবে দুঃখ পেরেশানির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
দুই. যাদের জন্য উভয়ই সমান। যাদের নিকট ভালো-খারাপের পার্থক্য নেই। কোরআনের ভাষায় তারা অনিষ্টের পক্ষে। যারা অনিষ্টের পক্ষে তাদের যেন দুঃখ পেরেশানিই কাম্য। বরং তাদের নিকট যেন সুখশান্তিই গ্রহণ যোগ্য নয়।
তিন. আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন তারা মানবে না। কোনো নসিহত যাদের কর্ণপাত হয় না, তাদের হৃদয়ে কোনো কথাই স্পর্শ করে না। তাদের যেন দুঃখ পেরেশানি লাভের নেশা ধরেছে।
চার. আপনি তাদেরকে যদি সতর্ক না করেন তাহলেও তাদের কোন কিছু যায় আসে না, কারণ- তাদের সতর্কতা লাভের পিপাসাও নেই। অর্থাৎ- ‘পিপীলিকার পাখা মেলে মরিবার তরে’, যেন ধ্বংস হবারই তাদের অদম্য ইচ্ছা।
পাঁচ. তারা বিশ্বাস করবে না। তাদের অন্তর যেন ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। দিনে দিনে তারা কোথায় এসে পৌঁছছে, কি করুন পরিস্থিতি তাদের মাথার উপর অপেক্ষা করছে, তাদের ভবিষ্যৎ কতটা অন্ধকার, কতটা অসহায়- সে বিষয়ে তাদের ভাবার কোন চিন্তা নেই। নিজের সম্পর্কে তারা একদম বেখবর।
অপর এক আয়াত বাকারা ৭-এ আল্লাহ বলেন, ‘এদের করুণ অবস্থা উল্লেখ করে বলেল- ‘তাদের জন্যে রয়েছে অত্যান্ত শাস্তি।’
সুতরাং দুঃখ-পেরেশানি হতে বাঁচতে উচিৎ আমাদের ওপর আল্লাহের সকল অবদানকে স্বীকার করা। সত্যকে মান্য করা। যোগ্য ব্যক্তিদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা। ভালো-খারাপের পার্থক্য বুঝা। গুরুজনদের সতর্ক বার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া। নিজেকে জাগ্রত রাখা ও জ্ঞান অর্জনের পিপাসা থাকা। আসমানী গ্রন্থসমূহ বিশ্বাস করা।
আমাদের যদি কৃতজ্ঞতা বোধ থাকে। মান্য করার যোগ্যতা থাকে। ভালো মন্দ পার্থক্যের বুঝ থাকে, সকল সতর্কবার্তাকে যদি আমলে নিই। যদি সতর্ক জীবন-যাপন করার পিপাসা থাকে, আল্লাহর উপর বিশ্বাস ও একনিষ্ঠাকে যদি প্রাধান্য দেই- তাহলে বীনা নোটিশে কোনো দুঃখ পেরেশানিতে আমরা পতিত হতে পারিনা।
অধিকাংশের বেলায় আল্লাহ বিনা নোটিশে কাউকে দুঃখ কষ্টে পতিত করেন না। মানুষ দুঃখ কষ্টের সম্মুখীন হবার পূর্বে অবশ্যই- তাকে সৌভাগ্য দেয়া হয়, তার নিকট সত্য মিথ্যা স্পষ্ট করা হয়, তাকে বারবার সতর্ক করা হয়, তার নিকট কোন পথ নির্দেশক পাঠানো হয়, আল্লাহর অনেক ভালোবাসা তাকে ঘিরে রাখে, বিপদাপদ হতে আল্লাহ তাকে বারবার বাঁচান। আল্লাহ আমাদেরকে দুঃখ পেরেশানি হতে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন।
