বিজয়ী বিএনপির সরকার গঠন ২০ বছর পর

২৪ঘণ্টা অনলাইন : শেষ হলো ভোট উৎসবের আরেকটি ধাপ। বেসরকারী ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ট দল হিসেবেই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দলটি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ঘোষিত ২৯৬ আসনের মধ্যে বিএনপি জোট পেয়েছে ২১২টি, জামায়াত জোট ৭৬টি এবং অন্যান্য ৮টি। উল্লেখ্য জাতীয় সংসদের ৩শ আসনের মধ্যে ১৫১টি আসন পেলেই সরকার গঠন করা যায়। মামলাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ৩টি আসনের নির্বাচনের ফল স্থগিত রাখা হয়েছে। আর শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় সেই আসনের ভোট স্থগিত রাখা হয়েছিল ইসি। এই আসনের এখন নতুন তফসিল দিয়ে ভোট করতে হবে। এই হিসাবেই দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সগৌরবেই এবারও দলটি সংসদে যাচ্ছে। সর্বশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি।
সে সময়ও একক সংখ্যাগরিষ্টতা পেলেও চার দলীয় জোটের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয়েছিল। ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক জয় পেয়েছিল ১৯৫টি আসনে। খুব দ্রুতই নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হচ্ছে। দ্রুত নির্বাচিতদের সংসদ সদস্য শপথ হবে এবং সংসদ বসবে।
ইসি ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে জয়লাভ করেছেন। এ ছাড়াও বিএনপির শীর্ষ নেতারা সবাইকে জয়লাভ করেছেন বিভিন্ন আসনে। জামায়াত আমির নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা-১৫ আসন থেকে। এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম জয় পেয়েছেন ঢাকা-১১ আসনে।
২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নেয়। দলের প্রার্থী ছিল এক হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৮৩ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৬৩ জন। বাকি ২০ জন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভোটের পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে এক হাজার ৬৯২ জন দলীয় প্রার্থী। পুরুষদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন।
নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ছিল বিএনপি। ২৯০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল এই দলের। জামায়াতের ২২৭ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৭ জন, জাতীয় পার্টির (জাপা) ২০০ জন, এনসিপির ৩২ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৯৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল।
প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে মোট ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন নিবন্ধন করেছিলেন বিডি অ্যাপের মাধ্যমে। এদের মধ্যে প্রবাস থেকে ভোট দিয়েছেন ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭২ জন এবং দেশে ভেতরে ভোট দিয়েছেন ৬,৭৯,৮১৬ । মোট ভোট দিয়েছেন ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন। অর্থাৎ ভোট পড়েছে ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ। এর মধ্যে ১০ শতাংশ ভোট বাতিলও হয়েছে।
