‘আওয়ামী দোসররা’ থাকায় অনুষ্ঠান বর্জন জুলাই আন্দোলন নেতাদের

২৪ঘণ্টা অনলাইন : ফরিদপুরের সদরপুরে জুলাই পুনর্জাগরণে সমাজ গঠনে লাখো কণ্ঠে শপথপাঠ অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন জুলাই আন্দোলনের নেতারা। আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে উপজেলা প্রশাসন অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে—এমন অভিযোগ এনে তা বর্জন করেন তাঁরা। গত শনিবার ২৬ জুলাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে ছিলেন সদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাজী জাফর, আকোটের চর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসলাম বেপারী, ঢেউখালি ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, ভাষানচর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ গোলাম কাউসার, চর মানাইর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, চর নাসিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান রোকনউদ্দিন মোল্লা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ঢাকার ওসমানী মিলনায়তনে। পরে বক্তব্য দেন ছাত্র ও রাজনৈতিক দলের নেতারা। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানায় উপজেলা প্রশাসন।
সেখানে উপস্থিত বিএনপি ও জুলাই আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ, ওই মিলনায়তনে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যানরা আওয়ামী লীগ ও ফরিদপুর ৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় যুবলীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মজিবুর রহমান ওরফে নিক্সন চৌধুরী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তাদের কারো কারো আওয়ামী লীগের দলীয় পদও রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ওই চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে গত বছর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় পুলিশকে মদদ দিয়ে আন্দোলনকারীদের দমনের অভিযোগ রয়েছে। ওই আন্দোলনে আন্দোলনকারী অনেক ছাত্রনেতাসহ বিএনপি নেতাদের মামলা, হামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়। সূত্র জানায়, বিএনপি ও ছাত্রনেতারা শপথ অনুষ্ঠান বর্জনের হুমকি দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা তাদের নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আন্দোলনকারী ছাত্রনেতারা শপথ না পড়ে মিলনায়তন থেকে বের হয়ে যান। আর বিএনপি নেতারা উপস্থিত থাকলেও শপথ পড়েননি। একপর্যায়ে সভাস্থলে হৈচৈ হলে সেখানে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যান ও সরকারি কর্মকর্তা ও জামায়াত নেতাদের নিয়ে শপথবাক্য পাঠ করে অনুষ্ঠান শেষ করেন ইউএনও।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুতজামান বলেন, ইউএনও আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে শপথবাক্য পড়ানোর উদ্যোগ নেন। এর প্রতিবাদ জানান তাঁরা। তবে ইউএনও হৈ হট্টগোলের মধ্যেই শপথ পড়ানোর কর্মসূচি শেষ করেন। বদরুতজামান জানান, তিনি মিলনায়তন থেকে বের না হলেও ওই শপথ পড়ানোর অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। অনুষ্ঠান বর্জন করা জুলাই আন্দোলনের ছাত্রনেতা তুষার মাহমুদ বলেন, ওই অনুষ্ঠানে আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি। অথচ আওয়ামী লীগের দোসর ইউপি চেয়ারম্যানদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, তিনিসহ মিলনায়তনে উপস্থিত আন্দোলনকারী ছাত্রনেতারা যারা গত জুলাই-আগস্টে হামলা ও মামলার শিকার হয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তাঁরা সবাই বের হয়ে আসেন।
তবে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে উপজেলা জামায়াতের আমির দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি পুরো সময় মিলনায়তনে উপস্থিত ছিলেন এবং শপথপাঠ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, অনুষ্ঠানটি মূলত সমাজসেবা ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের। দাওয়াত দেওয়ার ব্যাপারে দিকনির্দেশনা ছিল। তার পরও তিনি বিএনপি জামায়াত, এনসিপিসহ সব নেতাদের দাওয়াত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানরা সরকারের অংশ। দল থেকে নির্বাচন করলেও নির্বাচিত হওয়ার পর তারা সরকারের হয়ে যান। তাদের নিয়েই আমার কাজ করতে হয়। তারা কেউ কোনো মামলার আসামিও নন।
ইউএনও আরো বলেন, দলীয়ভাবে প্রধান দুজনকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে, সহযোগী সংগঠনগুলোকে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ ছিল না। চেয়ারম্যানদের বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে আমি সেটা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি।
