কঙ্গোয় ইবোলায় মৃত্যু ৪ হাজার ছাড়াল

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির সরকার প্রধান ২ অক্টোবর শুক্রবার জানায়, ১৫ মে থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ইবোলায় মারা গেছে ৪ হাজার ১৮ জন। সাতটি প্রদেশে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ২ হাজারের বেশি রোগী। বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইবোলার বিরল প্রজাতি বুন্ডিবুগিওর কারণে ঘটা এই প্রাদুর্ভাব ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবকে ছাড়িয়ে গেছে। কঙ্গোর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী ইবোলা মহামারিতে পরিণত হয়েছে। তবে বিশ্বে প্রাণহানির দিক থেকে এটি এখনো ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার মহামারির পরে। ওই সময় গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ২৮ হাজার ৬০০-র বেশি মানুষ আক্রান্ত হন। আর মারা যায় ১১ হাজারের বেশি।
ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (ইসিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কঙ্গোয় নিশ্চিত আক্রান্ত ছিলেন ৮ হাজার ২২৪ জন এবং মৃত ৩ হাজার ৯৮২ জন। আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত ৫৩ জন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশ ইতুরি, যেখানে আক্রান্ত ৬ হাজার ২৫০ জন ও মৃত ২ হাজার ৮৮৫ জন। নর্থ কিভুতে আক্রান্ত ১ হাজার ৫৭০ ও মৃত ৯৩১ জন। হাউত-উয়েলেতে আক্রান্ত ৩৪৪ ও মৃত ১৪৪ জন। এ ছাড়া তশোপো, বাস-উয়েলে, সাউথ কিভু ও সাউথ উবাঙ্গি প্রদেশেও রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশটির ১৬৭টি স্বাস্থ্য অঞ্চলের মধ্যে ৬৩টি এখন আক্রান্ত।
কঙ্গো সরকার ও জাতিসংঘ গত মাসে জানিয়েছিল, প্রাদুর্ভাবের শুরু হওয়া ইতুরির কিছু এলাকায় সংক্রমণ কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে পূর্বাঞ্চলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। প্রতিবেশী নর্থ কিভুতেও বিস্তার অব্যাহত। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাউথ উবাঙ্গি গত মাসে প্রাদুর্ভাবের সপ্তম প্রদেশ হিসেবে ঘোষিত হয়। পূর্ব কঙ্গো থেকে ওই প্রদেশে যাওয়া এক ব্যক্তি ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর সেখানে প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
বুন্ডিবুগিও প্রজাতির জন্য এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফামের মতে, সহায়তা কমে যাওয়ায় রোগ শনাক্ত ও নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে ত্রাণকর্মীদের পক্ষে অনেক এলাকায় পৌঁছানোও কঠিন হচ্ছে। দেশটিতে ২ কোটি ৬৫ লাখের বেশি মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখে আছে। অক্সফাম আরও জানায়, ইতুরির রাজধানী বুনিয়ায় ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রের ভেতরের একটি পানির উৎসের ওপর প্রায় ২০ হাজার মানুষ নির্ভর করছে। যা সংক্রমণ ঠেকানোর ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
আফ্রিকার বাইরেও রোগী শনাক্ত হয়েছে। উগান্ডায় মে ও জুনে ২০ জন আক্রান্ত হয়। টানা ৪২ দিন নতুন রোগী না পাওয়ায় ২৫ আগস্ট ডব্লিউএইচও সেখানে প্রাদুর্ভাব শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করে। ইউরোপে মে মাসে জার্মানি ও জুনে ফ্রান্সে আক্রান্ত রোগী ধরা পড়ে। জুলাইয়ে এক মার্কিন নাগরিককে জার্মানিতে এবং যুক্তরাজ্যের এক চিকিৎসাকর্মীকে লন্ডনে নেওয়া হয়। সর্বশেষ ২৯ সেপ্টেম্বর শনাক্ত হওয়া কঙ্গোয় কর্মরত এক স্বাস্থ্যকর্মীকে নেদারল্যান্ডসের লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ইসিডিসি বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে সংক্রমণের ঝুঁকি এখনো ‘অত্যন্ত কম’।
কঙ্গোয় ২০ হাজারের বেশি ভারতীয় কর্মরত থাকায় ভারত ভ্রমণ সতর্কতা, বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং ও ২১ দিনের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করেছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এই প্রজাতির কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। ডব্লিউএইচও ১৭ মে এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। ইসিডিসির পরবর্তী হালনাগাদ ৫ অক্টোবর প্রকাশের কথা রয়েছে।
