নারী আন্দোলনের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিয়ে ছায়া সংসদ

২৪ঘণ্টা অনলাইন: নারী আন্দোলনের দৃশ্যমানতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে অনলাইন মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্কের সরকারি দলের বক্তারা। তবে অনলাইন দৃশ্যমানতাকে আন্দোলনের সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি না করার পক্ষে মত দিয়েছেন বিরোধী দলের বক্তারা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক মাস ২০২৬-এর কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে এ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
‘অনলাইন দৃশ্যমানতা আজ নারী আন্দোলনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে’ শীর্ষক বিতর্কে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সংগঠন উপপরিষদের তরুণী সদস্য আফরা আনতারা।
বিতর্কে সরকারি দলের বক্তারা বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নারীদের নিজেদের কথা, অভিজ্ঞতা ও অধিকার-দাবি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে নারী নির্যাতন, সহিংসতা, বৈষম্য ও অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা দ্রুত মানুষের নজরে আনা এবং জনমত গঠন করা সম্ভব হচ্ছে।
তারা বলেন, অনলাইন প্রচারণা নারী আন্দোলনের পরিসর স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত করেছে। তরুণদের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করা এবং বিভিন্ন সংগঠন ও কর্মীদের দ্রুত যোগাযোগ ও সংগঠিত হওয়ার ক্ষেত্রেও অনলাইন মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে বিরোধী দলের বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক, কমেন্ট, ফলোয়ার বা পোস্টের রিচ দিয়ে একটি আন্দোলনের প্রকৃত প্রভাব সবসময় নির্ধারণ করা যায় না। অ্যালগরিদম ও কৃত্রিমভাবে বাড়ানো রিচের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করার সুযোগ রয়েছে।
তারা আরও বলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নারীরা সাইবার হয়রানি, ট্রলিং, হুমকি, অপমান ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের শিকার হচ্ছেন। তাই অনলাইন দৃশ্যমানতার পাশাপাশি আন্দোলনের বাস্তব সামাজিক প্রভাব ও মাঠপর্যায়ের অংশগ্রহণকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
স্পিকার ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী আন্দোলন নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি লড়াই প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নারী সমাজ কোনো অভিন্ন সত্তা নয়। বিভিন্ন স্তরের নারীদের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ও সংহতি গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সঠিক ডিজিটাল দক্ষতার ব্যবহার নারী আন্দোলনের পথকে আরও প্রশস্ত করতে পারে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১৫০ জন উপস্থিত ছিলেন। বিতর্ক শেষে অংশগ্রহণকারীদের ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও ফুল দিয়ে সম্মাননা দেওয়া হয়।
