জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বিশ্বকে প্রধানমন্ত্রীর ৫ আহ্বান

২৪ঘণ্টা অনলাইন : জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি বৈশ্বিক জলবায়ু পদক্ষেপে পাঁচটি জরুরি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটি অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী জানান, শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি এরই মধ্যে দেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমান হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জলবায়ু অভিযোজনের জন্য চলতি বাজেটে প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো এবং প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্যও রয়েছে।
বিশ্বের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ আহ্বান হলো—
১. বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে প্যারিস চুক্তির ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সীমা বজায় রাখা।
২. জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমানযোগ্য ও সহজলভ্য অভিযোজন অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
৩. জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তিতে উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রবেশাধিকার বাড়ানো।
৪. অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।
৫. ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিল পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত পুনঃঅর্থায়ন করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এককভাবে জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না। তাই বৈশ্বিক সহযোগিতা, জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব প্রয়োজন।
