মদিনায় ইউরেনিয়াম ও বিরল খনিজের বড় মজুদের সন্ধান

২৪ঘণ্টা অনলাইন : সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ বিরল খনিজ ও ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান জানিয়েছেন, জাবাল সাইয়িদ এলাকায় প্রায় ১১ কোটি টন খনিজ আকরিকের সন্ধান মিলেছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। তাঁর দাবি, অনুসন্ধানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরেনিয়ামের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজও পাওয়া গেছে।
সৌদি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, জাবাল সাইয়িদ এলাকায় প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী বিরল খনিজ রয়েছে। এর মধ্যে ডিসপ্রোসিয়াম ও টার্বিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন হালকা বিরল খনিজের মজুদ রয়েছে, যার মধ্যে নিওডিমিয়াম ও প্রাসিওডিমিয়াম উল্লেখযোগ্য। এলাকায় প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়াম থাকারও ধারণা করা হচ্ছে।
জাবাল সাইয়িদ মদিনা অঞ্চলে অবস্থিত এবং জেদ্দা থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বের বড় বিরল খনিজ মজুদের তালিকায় জাবাল সাইয়িদের অবস্থান চতুর্থ।
সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগের মধ্যেই এই আবিষ্কারের তথ্য সামনে এলো। গত ২২ জুলাই দুই দেশ বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচিতে সহযোগিতা বাড়াতে একটি চুক্তি করে। এর ফলে সৌদি আরবে মার্কিন কোম্পানিগুলোর কাজের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ইউরেনিয়াম নিয়ে দুই দেশের সহযোগিতাও জোরদার হচ্ছে। সৌদি সরকারি খনি প্রতিষ্ঠান মাদেন ও যুক্তরাষ্ট্রের এমপি ম্যাটারিয়ালসের মধ্যে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবে একটি বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খনিজ ও ইউরেনিয়ামের মজুদ বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে সৌদি আরব নিজস্ব পরমাণু জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায়ও দেশটির ভূমিকা বাড়তে পারে।
সৌদি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে দেশটিতে আবিষ্কৃত বিরল খনিজ সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ২০১৮ সালের তুলনায় এই মূল্য বেড়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ।
