১১ শতকের দুর্গ রক্ষায় ৩৩ কোটি টাকার সংস্কার
জলবায়ু পরিবর্তন

ইংল্যান্ডের ডরসেটের ১১ শতকের ঐতিহাসিক দুর্গ কর্ফে ক্যাসেল। এটিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে রক্ষায় প্রায় ৩৩ কোটি টাকা খরচ করে সংস্কার করা হয়েছে। তিন বছর ধরে চলা এই কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে।
ন্যাশনাল ট্রাস্ট জানিয়েছে, ১৯৫০-এর দশকের পর কর্ফে ক্যাসেলে এটিই সবচেয়ে বড় সংস্কারকাজ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দুর্গটি সংরক্ষণ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংস্কারের সময় দুর্গের পাথরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হয়েছে। দুর্বল দেয়ালগুলো শক্ত করা হয়েছে। দুর্গের একটি পুরোনো প্রবেশপথেরও সন্ধান করা হয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ইংলিশ সিভিল ওয়ারের সময় দুর্গটি দখলের ক্ষেত্রে ওই প্রবেশপথ ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এটি আসলেই সেই প্রবেশপথ কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্গটির ওপর চাপ বাড়ছে। গ্রীষ্মকালে দীর্ঘ খরায় দেয়ালের গাঁথুনির উপকরণ শুকিয়ে যাচ্ছে। আবার উষ্ণ ও বেশি বৃষ্টির শীতে দেয়ালে গাছপালা ও আগাছা বাড়ছে। এসব গাছের শিকড় পাথর আলগা করে দিচ্ছে।
দুর্গটির কিছু অংশ ১৬৪৬ সালে পার্লামেন্টপন্থি বাহিনী ধ্বংস করেছিল। এতে দেয়ালের কিছু অংশ খোলা অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে সেগুলো বৃষ্টি ও অন্যান্য আবহাওয়ার প্রভাবে সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এই সমস্যা মোকাবিলায় সংরক্ষণকর্মীরা ‘সফট ক্যাপিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এতে দেয়ালের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ঘাস দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এতে খরা, ভারী বৃষ্টি ও ক্ষতিকর গাছপালার প্রভাব কমানো যায়।
সংস্কারের সময় দুর্গটির নয়টি টাওয়ার, মূল দুর্গ এবং ৮ মিটার উঁচু দেয়ালেও কাজ করা হয়েছে। একটি ভেঙে পড়া প্রহরী টাওয়ারও মেরামত করা হয়েছে। টাওয়ারটি ৩৫ ডিগ্রি কোণে ৩০ মিটার গভীর একটি উপত্যকার ওপর ঝুঁকে ছিল।
ওই টাওয়ারের পাথর সরাতে বিশেষ ধরনের কাঠামো ব্যবহার করা হয়। কিছু পাথরের ওজন ছিল ৯০ কেজি পর্যন্ত।
সংস্কারের সময় মধ্যযুগের নির্মাণকর্মীদের রেখে যাওয়া বিভিন্ন চিহ্নও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দিনের কাজের হিসাব রাখার দাগ, তীর ছোড়ার জায়গার চিহ্ন এবং পাথর কাটার সময় ব্যবহৃত কুঠারের দাগ রয়েছে।
দুর্গটির মূল টাওয়ারেও সংস্কার করা হয়েছে। একসময় এই টাওয়ার ছিল কর্ফে ক্যাসেলের রাজকীয় জীবনের কেন্দ্র।
সংস্কারকাজে অর্থ জোগাতে দর্শনার্থীদের জন্য দুর্গের ওপরের অংশে একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম খোলা হয়েছিল। ‘কিংস ভিউ’ নামের ওই প্ল্যাটফর্ম থেকে দর্শনার্থীরা ৩৫০ বছরের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো রাজকীয় কক্ষগুলোর কিছু অংশ দেখার সুযোগ পান।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ পাউন্ড বা ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের অনুদান, স্মারক ব্যাজ ও পুরোনো বই বিক্রি থেকেও অর্থ এসেছে।
ন্যাশনাল ট্রাস্ট জানিয়েছে, সংস্কার শেষ হলেও দুর্গটির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে। বিশেষ করে গাছপালা ও আগাছার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রায় নিয়মিত কাজ করতে হবে।
সংস্থাটি বলেছে, কর্ফে ক্যাসেলকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখতে এখন থেকে নিয়মিত সংরক্ষণকাজ চালানো হবে।
